শিল্পে ঐতিহ্য ও নান্দনিকতা

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২০
তারা কেউ এসেছেন নারায়ণগঞ্জ, কেউ টাঙ্গাইল আবার কেউ বর্ধমানের বাড়ই পাড়া থেকে। আবার কারো বাস কলম্বো শহরে । তারা সকলেই নিজেদের শিল্প সামগ্রীর পসরা সাজিয়েছেন নগরীর শিল্পকলা একাডেমীর চিত্রশালায়। উদ্দেশ্য নিজের সযত্নে করা শিল্পকর্ম দেখাবেন, বেঁচবেন আবার পছন্দমতো অন্যেরটাও নিয়ে যাবেন নিজ দেশে। এমন আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যকে প্রসারিত করার নিমিত্তেই গতকাল সার্ক কালচারাল সেন্টার শ্রীলংকা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয় মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আয়োজন করেছে সার্ক হস্তশিল্প প্রদর্শনী ও মেলা। মেলা উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয় মন্ত্রণালয় মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রনজিত্ কুমার বিশ্বাস এনডিসি, সার্ক কালচারাল সেন্টারের পরিচালক জি এল ডাবলিউ সামারসিংহে এবং একই প্রতিষ্ঠানের উপ-পরিচালক সুন্দরী ডেভিট রজরিমা। প্রধান অতিথি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ যুগযুগ ধরে বাঙালির হস্তশিল্পের ঐতিহ্যের কথা বর্ণনা করে বলেন, আমাদের মসলিন, জামদানি বিশ্বে সমাদিত। আমাদের হস্ত ও কুটির শিল্পের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ বেশি। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সার্ক অঞ্চলের মানুষের কাছে আমাদের ঐতিহ্যবাহী এসব সামগ্রী পৌঁছে যাবে। অন্যরাও আমাদের বাজারে প্রবেশ করবে। এমন সুযোগদানের জন্য তিনি সার্ক কালচারাল সেন্টারের পরিচালক জি এল ডাবলিউ সামারসিংহে-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ড. রনজিত্ কুমার বিশ্বাস এনডিসি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই মেলা সার্ক দেশসমূহের মধ্যে সমপ্রীতি ও ভাত্রিত্বের নতুন মাত্রা যোগ করবে। সার্ক দেশসমূহের মধ্যে এমন উদ্যোগ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন। জি এল ডাবলিউ সামারসিংহে এ অঞ্চলের হস্তশিল্পের জনপ্রিয়তা ও সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই অঞ্চলের প্রত্যেক দেশই আছে নিজেদের হস্ত ও কুটির শিল্পের প্রাচীন ঐতিহ্য । এই ঐতিহ্য সার্ক দেশসমূহের মধ্যে প্রসারিত হবে। এর জন্য নানা সময়ে করা সভা সেমিনার আর ক্যাম্পেইনের কথা তিনি উল্লেখ করেন । বাংলাদেশ ছাড়া সার্কভুক্ত আরও ৪টি দেশ ভারত, পাকিস্তান, ভুটান ও শ্রীলংকা এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশ থেকে ১৮ জন হস্তশিল্পী/কারুশিল্পী সিরামিক, পাটজাত, জামদানি, কাঁসা-পিতল, টেরাকোটা, বেনারসি, সিল্ক, শোলা, বাঁশ, নকশিকাঁথা, শতরঞ্জি মৃিশল্প ও কাঠ শিল্প নিয়ে প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন। ভারত থেকে ৮ জন পাকিস্তান থেকে ১০ জন, শ্রীলংকা থেকে ৬ জন ও ভুটান থেকে ৪ জন হস্তশিল্পী এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করছেন। সপ্তাহব্যাপী এ প্রদর্শনী শেষ হবে ২৭ সেপ্টেম্বর। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা হস্তশিল্পকর্ম দেখার সুযোগ পাবেন।