বিউটিফুল লায়ার!

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২৯
এ বছরের বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় দুর্বার রহস্য সৃষ্টি হয়েছে উজবেকিস্তান থেকে আসা সুন্দরী কারিমা গানিয়েভাকে নিয়ে। মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় প্রত্যেক দেশ থেকে সেই দেশের বাছাই করা সেরা সুন্দরী অংশ নিয়ে থাকেন। উজবেকিস্তান থেকেও অংশ নেন কারিমা। বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার প্রোফাইলে তার পরিচয় দেয়া হয়েছে তিনি মিস উজবেকিস্তান-২০১৩। কিন্তু যে দেশ তাকে সেরা সুন্দরী হিসেবে নির্বাচিত করেছে সেই দেশের কেউই তাকে চিনতে পারলো না। বিষয়টি পত্রিকায় ছাপা হবার পর নড়েচড়ে বসে দেশটির সরকার। অবশেষে তারা এক বিবৃতি দিয়ে বলেছে, কারিমা গানিয়েভা মিস উজবেকিস্তান নন, তিনি আসলে একজন প্রতারক! সরকারের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, মুসলিমপ্রধান দেশ উজবেকিস্তানে সুন্দরী প্রতিযোগিতা জাতীয় কিছু অনুষ্ঠিত হয় না। তিনি দেশের সেরা সুন্দরী কিনা সেটা বলা কঠিন। তবে এটা বলা যায় যে, তিনি দেশসেরা মিথ্যুক হবার যোগ্যতা রাখেন। দেশসেরা মিথ্যাবাদির প্রতিযোগিতা মিস মিথ্যাবাদি যদি কোনোদিন অনুষ্ঠিত হয় তবে কারিমা যে উপরের দিকে থাকবেন তা নিশ্চিত করে বলা যায়। উজবেকিস্তানের সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া মন্ত্রী রেডিও ফ্রি ইউরোপের সাথে সাক্ষাত্কারে বলেন, কারিমা নাকি দাবি করেছেন, গত ২০ জুলাই রাজধানী তাসখন্দে সুন্দরী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে কারিমা সেরা নির্বাচিত হন; কিন্তু আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলছি, গত ২০ জুলাই তেমন কোনো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই কারিমাকে নির্বাচিত করার প্রশ্নই আসে না। সুতরাং ওই মিথ্যাবাদি মেয়েটির দায়িত্ব উজবেকিস্তান নিতে পারবে না। প্রতিযোগিতার আয়োজকরা এখন তাকে মাথায় তুলে রাখবে নাকি প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দিবে সেটা তাদের ব্যাপার। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে তার দায়িত্ব নিতে রাজি নই। অপরদিকে, উজবেকিস্তানের শীর্ষ মডেলিং কোম্পানি প্রো মডেলস বলেছে, মেয়েটি মিথ্যার উপর ভর করে কেরিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তা জাভলন কমোলভ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, কারিমার চেয়ে ঢের বেশি সুন্দরী উজবেকিস্তানে ভুরি ভুরি আছে। সুতরাং মিস উজবেকিস্তান নির্বাচিত করতে চাইলে আমরা তার চেয়ে হাজারগুণ বেশি সুন্দরী কাউকে নির্বাচন করে পাঠাতাম। এদিকে, ভুয়া সুন্দরীকে নিয়ে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজকরা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। তারা এক বিবৃতি দিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বহু আবেদন পাই। বেশিরভাগ দেশ জাতীয়ভাবে নির্বাচন করা সেরা সুন্দরীকে পাঠায়। প্রত্যেকের আবেদনপত্র আলাদা আলাদা করে যাচাই করা সম্ভব হয় না। মিস উজবেকিস্তান দাবিদার কারিমা হয়তো সেই সুযোগটি নিয়েছেন। তবে অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলার জন্য হাজার চেষ্টা করেও কোনো মিডিয়া কারিমার নাগাল পায়নি। কাউকে সাক্ষাত্ দিতে রাজি হননি তিনি।