নতুন আইফোন ৫এস-এ ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের সংযুক্তিকে অ্যাপল অন্যতম প্রধান চমকজাগানো ফিচার হিসেবে অভিহিত করেছিল। তবে আইফোন ৫এস বিক্রি শুরুর দুই দিনের মধ্যে এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর হ্যাক হয়ে গেছে। ক্যাওস কম্পিউটিং ক্লাব (সিসিসি) নামের এক জার্মান হ্যাকারদল এই টাচ সেন্সর হ্যাকিংয়ের দাবি করেছে। ফলে অত্যাধুনিক এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে, টেক জায়ান্ট অ্যাপল’র জন্য যা অত্যন্ত বিব্রতকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী হ্যাকারদের মধ্যে জার্মানির সিসিসি অত্যন্ত সুপরিচিত এবং শক্তিশালী সব হ্যাকিংয়ের ঘটনার সাথে জড়িত তারা। এই হ্যাকারদল একটি কাঁচের তল থেকে হাতের ছাপের ছবি তুলে সেটি দিয়ে আনলক করেছে নতুন আইফোন ৫এস। এরপরই তারা তাদের এই সাফল্যের খবরকে ছড়িয়ে দিয়েছে অনলাইনে। তারা জানিয়েছে, ‘আমাদের বায়োমেট্রিক দল খুব সহজেই অ্যাপল’র নতুন যুক্ত করা টাচ আইডিকে ভাঙতে সমর্থ হয়েছে। এর জন্য আমাদের খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি। কাজেই আমরা মনে করি এরকম মোবাইল ডিভাইসের নিরাপত্তায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট বায়োমেট্রিক ব্যবহার করা খুব বেশি কার্যকরী নয় এবং এটা পরিহার করা দরকার।’ স্টারবাগ নিক নামের এই বায়োমেট্রিক দলের একজন সদস্য জানান, ‘আমরা আগেও জানিয়েছি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাজে হাতের ছাপকে ব্যবহার না করাই ভালো। আমরা প্রতিদিন হাজার হাজার স্থানে আমাদের হাতের ছাপ ফেলে আসি। এসব ছাপ থেকে সহজেই কারও হাতের ছাপের প্রতিলিপি তৈরি করা সম্ভব এবং তা ব্যবহার করেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অনিরাপদ করা সম্ভব।’ সিসিসি’র বায়োমেট্রিক দল কীভাবে হাতের ছাপের প্রতিলিপি তৈরি করে আইফোনে প্রবেশ করেছে, তার একটি ভিডিও-ও ছাড়া হয়েছে অনলাইনে। হ্যাকিংয়ের এই ঘটনা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই এখন অ্যাপল’র এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরকে অত্যন্ত ‘অকেজো’ বলেই মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে অ্যাপল’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, বছরখানেক আগে অ্যাপল ৩৬৫ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেয় অথেনটেক নামক একটি কোম্পানি, যারা ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং এনএফসি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে থাকে। তাদের উদ্ভাবিত বায়োমেট্রিক সেন্সরই ব্যবহার করা হয়েছে আইফোন ৫এস-এ।
