শ্রীলঙ্কার প্রাদেশিক নির্বাচনে তামিলদের বিপুল বিজয়

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:১৫
শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু তামিলদের প্রধান রাজনৈতিক দল দ্য তামিল ন্যাশনাল এলিয়্যান্স (টিএনএ) উত্তরের সাবেক যুদ্ধ বিক্ষুব্ধ অঞ্চলের প্রাদেশিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে। তামিল বিদ্রোহ অবসানের চার বছর পর শনিবার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গৃহযুদ্ধে পরাজিত তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক শাখা টিএনএ প্রাদেশিক পরিষদের ৩৮টি আসনের মধ্যে ৩০টিতে জয় পেয়েছে বলে রোববার জানিয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্রা রাজাপাকসের ক্ষমতাসীন জোট ৭টি আসনে এবং একটি মুসলিম দল বাকি একটি আসনে জয়লাভ করেছে। —রয়টার্স শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলে গত ২৫ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে শ্রীলঙ্কা সরকার এ নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। টিএনএ জাফনায় ৮৪ শতাংশ, কিলিনোচ্চিতে ৮১ শতাংশ ও মুল্লাইতিভুতে ৭৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছে। জাতীয় সংসদে রাজাপাকসের দলের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এছাড়া বাকি আটটি প্রদেশও তার দলের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে রাজাপাকসের ক্ষমতাসীন জোটের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় নির্বাচনী বিপর্যয়। ২০০৯ সালে সরকারি বাহিনীর কাছে বিদ্রোহী তামিল টাইগার বাহিনী হেরে যায়। যার মধ্যদিয়ে দেশটিতে দীর্ঘ ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। কিন্তু টিএনএ’র জয় প্রমাণ করেছে বিদ্রোহীরা পরাজিত হলেও তামিলদের স্বায়ত্তশাসনের আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়নি। দেশটির ২ কোটি মানুষের প্রায় ১৪ শতাংশ উত্তরাঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ তামিলরা। এদেরই একজন জাফনার কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষক টি সিভারুবান (৩৩) বলেন, “তামিলদের একটি রাজনৈতিক সমাধান দরকার, নির্বাচনের এই ফলাফল আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কাছে এ বার্তাটি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে।” টিএনএ’র জনপ্রতিনিধি এম এ সুমানথিরান বলেন, “রাজনৈতিকভাবে আমরা একটি দারুণ নজির সৃষ্টি করতে পেরেছি। সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের কাছে মাথা নত না করে তামিলরা জেগে উঠেছে। এবার সরকারকে এই ফলাফলের কাছে মাথা নত করতে হবে।”