সকল দ্বন্দ্ব-বিভেদ কাটিয়ে আগামী নির্বাচনের আগে প্রস্তুত হওয়া ও বিরোধী দলের অযৌক্তিক আন্দোলন-সংগ্রাম মোকাবিলার জন্য ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর মাধ্যমে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর পর মহনগরের তৃণমূলের সম্মেলন আজ মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে। বিকাল ৩টায় কলাবাগান ত্রীড়া চক্র মাঠে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কলাবাগান, নিউমার্কেট, হাজারিবাগ ও ধানমন্ডি থানা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে নগরীর ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ ও ২২ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগেরও সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। উপস্থিত থাকবেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপি প্রমুখ। ঢাকা মহানগরের থানা ও ওয়ার্ডগুলোর তিন বছর মেয়াদী সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৩ সালে।
জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর পর গত ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয়। কাউন্সিলের পর ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো নতুন কমিটি দেয়া হয়নি। মহানগরের কাউন্সিলের পরদিন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত পুরানো কমিটি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সঙ্গে নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত পুরানো কমিটিকেই কাজ চালিয়ে নেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূলের সকল সম্মেলন শেষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা সিটি করপোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ এই দুই ভাগে বিভক্তির পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে ভাগ করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এ দুইটি কমিটি করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। আবার উত্তর-দক্ষিণ এই দুই কমিটিকে দেখভাল করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের আদলে আরেকটি কমিটি গঠনের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। তবে থানা-ওয়ার্ডের সম্মেলন শেষ করার পর কেন্দ্রীয় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হবে।
সূত্র জানায়, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আহত হাওয়ার পর ২০০৬ সালের নভেম্বরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সিটি মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুর পর এখন পর্যন্ত সভাপতি নির্বাচন করা হয়নি। দীর্ঘ ১০ বছর চার দফায় চলছে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিয়ে। বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে রয়েছে দ্বন্দ্ব। এক সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি নিয়েও চলছে বেশ কিছু ওয়ার্ড। আর এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নগর নেতাদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ। ঝিমিয়ে পড়েছে নগর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। কর্মীরাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে কমিটির জন্য।
মোহাম্মদ নাসিম ইত্তেফাককে জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা মহানগরের তৃণমূলের সকল সম্মেলন শেষ করা হবে।
