কম্পিউটার প্রকৌশল নিয়ে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৮:৪০
প্রযুক্তির রমরমা সময় এখন। সোনালী এই সময়ে সাক্ষরতার সংজ্ঞা বদলেছে! আগে সাক্ষর দিতে পারলেই সে ছিল অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। বর্তমানে যুক্ত হচ্ছে ডিজিটাল লিটারেসি। অর্থাত্ কম্পিউটার জানার বিষয়টি। সামনের দিনে সাক্ষরতার ক্ষেত্রে কম্পিউটার জ্ঞান প্রাধান্য পেতে পারে! কম্পিউটার সায়েন্সের লক্ষ্য হল জীবনমানকে সহজ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। কম্পিউটার প্রকৌশল নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন। একবার চিন্তা করুন- সারাবিশ্বে কোনো কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ওয়েবসাইট, অনলাইন শপিং, মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস কিছু নেই। পৃথিবীটা তাহলে কেমন হবে? কল্পনা করতে আপনার অস্বস্তি লাগছে। আসলে এসব বাদ দিয়ে বর্তমান সময়টা পুরোপুরি অচল। এসব কিছু নিয়েই ডিজিটাল যুগ। আর এসব নিয়েই কম্পিউটার প্রকৌশল। কোথায় পড়বেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়টি। বিষয় হিসেবে এটি বেশ জনপ্রিয়তা যে পেয়েছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়াও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে পড়ার সুযোগ। একজন ভাল কম্পিউটার প্রোগ্রামার হতে পারলে দেশে ও দেশের বাইরে রয়েছে চাকরির ব্যাপক সুযোগ। যা শিখতে পারবেন: কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা দেয় কীভাবে কম্পিউটারের উপাদানগুলো কাজ করে, কীভাবে এগুলো দ্বারা কাজ করানো হয় এবং ডেভেলপ করার উপায়সমূহ। এ বিষয়গুলোকে আবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। আমাদের মতো একটা উন্নয়নশীল দেশের জন্য সত্যিকার অর্থেই ভালো ইঞ্জিনিয়ার খুব দরকার। এক্ষেত্রে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া উন্নয়ন অনেকটা মন্থর হবে। কাজের সুযোগ: অনেকের মধ্যেই ধারণা রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অর্থ আয় করতে হলে তাকে কম্পিউটার সায়েন্সে ইঞ্জিনিয়ার অথবা স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। তবে এ কথা সত্য যে, কম্পিউটার সায়েন্সের কাজের ক্ষেত্রটা প্রসারিত। অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের কাজ করার মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গঠনের জন্য প্রয়োজন কম্পিউটার এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। তারপর দক্ষতা অনুযায়ী কাজ সংগ্রহ করে ডেলিভারি দেয়া। লিডারশিপ গড়তে: কম্পিউটার সায়েন্সে পড়া শেষ করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ের ওপর উচ্চতর পড়াশোনা করতে পারেন। বিষয়টির ওপর উচ্চতর গবেষণা করতে চাইলে এটা কাজে দেবে। কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং রিলেটেড কোনো ভালো প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেন। এরপর চেষ্টা করুন যা জ্ঞান অর্জন করেছেন তা ফোকাসে এনে একটা লিডারশিপ গড়ে তুলতে। অবশ্যই চেষ্টা করবেন সব সময় দেশের জন্য কিছু করার। দক্ষতা ছড়িয়ে দিন: অপারেটিং সিস্টেম, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মোবাইল কম্পিউটিং, নিউরাল কম্পিউটার বিষয়গুলো ডেভেলপ করা নিয়ে কাজ করতে পারেন। দক্ষতা এবং জ্ঞান যখন পরিপূর্ণতা পাবে তখন নিজে থেকে ক্রিয়েটিভ কিছু করতে পারেন। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারেন আপনি। ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং: অনলাইনভিত্তিক কাজের মাধ্যমে সুযোগ রয়েছে ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অর্থ লাভ করার। তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অনেক দেশই অন্য দেশের কাজসমূহ অনলাইনের মাধ্যমে করে থাকে। সামপ্রতিক সময় বাংলাদেশে আউটসোর্সিংভিত্তিক বিভিন্ন কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি এ খাতে বিপুলসংখ্যক তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছবি: রায়হান আহমেদ