শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

জলে আর বনে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৮:৪২
পুরো সময় আকাশ জুড়ে আলোছায়ার খেলা চলছিল। যাত্রার শুরুতে মেঘলা আকাশ, আবার বনে প্রবেশ করার সময় ঝলমলে রোদ। সেই রোদ গায়ে মেখেই আমরা বনের প্রবেশমুখে চলে এলাম সকাল সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আম্বরখানা এলাকার এয়ারপোর্ট সড়কের মুখ থেকে রাতারগুলের মোটরঘাট পর্যন্ত সিএনজিযোগে ছয়জন শিক্ষার্থী রওয়ানা দেন। শহরকে ঠিক পেছনে ফেলে বিমানবন্দরের রাস্তা ধরে সালুটিকর ও চেঙ্গির খাল পাড়ি দিয়ে সিএনজি দ্রুতগতিতে এগোতে থাকে মোটরঘাটের দিকে। সিএনজি অটোরিকশাটি সামনে যতই এগোতে থাকে ততই মনটা ভালো লাগার আবেশে ভরে ওঠে। রাস্তার একপাশ ভারতের পাহাড়, অন্যপাশে বাংলাদেশ। অদ্ভুত সুন্দর এক স্থান, মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশ। যাত্রার পুরো সময় আকাশ জুড়ে আলোছায়ার খেলা চলছিল। যাত্রার শুরুতে মেঘলা আকাশ, আবার বনে প্রবেশ করার সময় ঝলমলে রোদ। সেই রোদ গায়ে মেখেই আমরা বনের প্রবেশমুখে চলে এলাম। এরপর সিএনজি থেকে নেমে প্রথমে বেশ কিছুদূর কর্দমাক্ত রাস্তা ধরে হেঁটে যেতে হল। কর্দমাক্ত রাস্তা পেরিয়ে প্রবেশমুখে পৌঁছে দেখলাম চার থেকে পাচটি নৌকা বাঁধা ছিল। বোঝা গেল, আমাদের মত ভ্রমণপিপাসু লোকের অভাব নেই। চারশো টাকায় নৌকা ভাড়া নৌকা মাঝি দাড় টানতে লাগলো। অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা রাতারগুলের কাছে পৌঁছে গেলাম। অতপর আমরা বনে প্রবেশ করিলাম। চারপাশের নিরবতা এতটাই বিমোহিত করেছিল যা কি না ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। নাম মা জানা পাখির ডাক ছাড়া আর কোন শব্দই কানে আসছে না। অদ্ভুত সেই অনুভূতি। আমাদের ধীরলয়ে চলছে নৌকা, মাঝির সঙ্গে একটানা আলাপন চললেও আমাদের সবার চোখ বাইরের প্রকৃতির দিকে। একইসাথে দলের ফটোগ্রাফার নাসির, পলাশসহ খায়ের ভূইয়া আর সিজন ক্লিক ক্লিক করে ছবি তুলতে ব্যস্ত। নৌকা থেকে জলবনের দূরে থাকালে চোখে ভেসে উঠে গ্রামের বাড়িঘর, হাওর, সারি সারি বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। স্বচ্ছ পানিতে নিজের প্রতিচ্ছায়া। সারাদিনই এ বনের অভ্যন্তরে মাছ শিকারের দৃশ্য দেখা যায়। মাহবুবের মোবাইলে চেন্নাই এক্সপ্রেসের ‘চিপাক চাপাক কে চালতি হ্যায় কাহি কাহি দূ রাহে’ আর সুব্রত বাইনের দরদমাখা কণ্ঠে বিভিন্ন ভাওয়াইয়া গানে রাতারগুলের আকাশ-বাতাস যেন ভরে উঠে। এরই মাঝে দলের অন্য সবাই পানির উপর একটি অক্টোপাসের মত পেঁচানো গাছে উঠার ব্যস্ততায় নৌকায় প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খেলে আনাড়ি আমি নৌকা থেকে পিছলে জলেই ভিজে গেলাম। সব ভিজে গিয়েছিল। কাপড়, মোবাইল, মানিব্যাগ সব। ভাগ্যিস মোবাইলটা নষ্ট হয়ে যায়নি। রাতারগুলের সৌন্দর্যে আভিষ্ট সিজন বড়ুয়া এক ফাঁকে মনের গাছের আবডালে বসে দোল খেয়ে ছবি তোলায় মগ্ন। মনের অজান্তে বিষাক্ত সাপের (সবুজ সাপ, গায়ের রঙ গাঢ় সবুজ, এ প্রজাতির সাপ রাতে চোখে দেখে না) খুব কাছে গিয়ে ডালে দোল দিলে আচমকা মাঝির সাপ সাপ চিত্কারে তার সেই মগ্নতা কেটে যায়। যাত্রী বেশে প্রায় আড়াই ঘণ্টা নৌকায় থাকায় মাঝির কাছ থেকে সিলেটের সুন্দরবন রাতারগুল সম্পর্কে অনেক টুকটাক কিছু তথ্য জেনে নেই। আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকায় আরো কয়েকদফা ছবি তোলার পর অগত্যা আবার চিরচেনা ক্যাম্পাসে ফিরে আসতে হলো। তবে জলার বনের অভ্যন্তরে অবস্থিত লেকে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির অনিন্দ্যসুন্দর জলকেলি, গড়পড়তা ১০ ফুট নীল স্বচ্ছ পানিতে ডুবন্ত গাছপালার মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা বাকি অংশের দৃশ্য এখনো মানসপটে ভেসে উঠে।