বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বৃত্তের বাইরে একদিন

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৮:৪৩
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০০ একর ক্যাম্পাস নামক ‘বৃত্তের’ মধ্যে প্রতিনিয়ত চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা। কৃষি অনুষদের ২য় বর্ষের বি সেকশনের শিক্ষার্থীরা এই ‘বৃত্তের’ বাইরে গিয়ে একঘেঁয়েমি থেকে মুক্তি পেতে চেষ্টা করি। সেকশন থেকে একটি বনভোজনের আয়োজন করা হল। দিন হিসেবে ১৪ সেপ্টেম্বর শনিবার ছুটির দিনটি বেছে নেই আমরা। স্থান নির্ধারণ হলো শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মধুটিলা ইকো পার্ক। সেই দিন সকাল ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যালিপ্যাড থেকে বাসে করে রওয়া দেই। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর কাঙ্খিত স্থানে পোঁছাই। পার্কের মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়লো উঁচু উঁচু বিভিন্ন গাছের সারি ও পাহাড়ি ঢালুর আঁকাবাঁকা রাস্তা। বাস থেকে নেমে প্রথমে আমরা উঠলাম পাহাড়ের চূড়ায় সাইট ভিউ টাওয়ারে। ওয়াচ টাওয়ারে উঠে পাহাড় আর সীমান্তবর্তী সবুজ গারো পাহাড় দেখতে পেলাম। দেখা গেল সীমান্ত পেরিয়ে উঁচু উঁচু পাহাড় আর সবুজ অরণ্যের মনোরম দৃশ্য। টাওয়ার থেকে নেমে পাহাড়ে প্রবেশ পথে দেখা গেল ধূসর রঙের বিশাল আকৃতির শুঁড় উঁচানো পাথরের তৈরি দুটি হাতি। এর আগে দেখা মিললো রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, হরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, হ্রদের ধারে কুমির আর মত্স্যকণ্যার অতি চমত্কার সব ভাস্কর্য। অনেকেই ভস্কর্যগুলোর উপর উঠে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে গেল। এরপর আমরা যত সামনের দিকে গেলাম, ততই মন ভরে গেল প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে। পাশেই পাওয়া গেল একটি মিনি চিড়িয়াখানা। দেখা মিলল কিছু হরিণের। পথে বুনো গাছপালার ফাঁকে ফুটে আছে হরেক রকমের বুনোফুল, তাতে বাহারি প্রজাপতির ওড়াউড়ি। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাওয়ার পথে ঝোপঝাড়ে আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচু পথে ঘন ঘন গাছের সারি গভীর অরণ্যের দিকে চলে গেছে। ফেরার পালা। আমাদের সাথে দুইজন শিক্ষক ছিলেন, সালেহ মোহাম্মদ আদনান ও জাহাঙ্গীর আলম। আদনান স্যার ফেরার পথে সারা রাস্তা বাসে দাঁড়িয়ে আমাদের সাথে মজা করেছেন। দিনটি ছিল আমাদের একঘেঁয়েমি কাটানোর বিশেষ পন্থা। চাইলে যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন অপার সৌন্দর্যের লীলভূমি মধুটিলা ইকো পার্কে। এ দিনটি আমাদের সবার মনের মণিকোঠায় সারা জীবন স্থান করে নেবে এমনটি প্রত্যাশা সবার।