আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে যথারীতি অগ্রিম টিকিট বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে আগামী ২ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। এছাড়া ঈদের পর কর্মস্থলমুখী মানুষের সুবিধার্থে ফিরতি টিকিট বিক্রি হবে ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। ফিরতি যাত্রীরা অগ্রিম টিকিটের বিপরীতে ভ্রমণ করতে পারবেন ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। ঈদের আগে ও পরে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ মোকাবিলায় মোট ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে রেলওয়ে।
মঙ্গলবার রেলভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবু তাহেরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রেলমন্ত্রী বলেন, ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের সামর্থ্য অনুযায়ী ঘরমুখো যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতেই প্রতিবারের মতো এবারও বিশেষ ট্রেন সার্ভিস পরিচালনা এবং অগ্রিম টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের টিকিটের কালোবাজারি বন্ধ এবং সেইসঙ্গে নিরাপদ ভ্রমণের সব ধরনের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। রেলে নাশকতা প্রতিরোধেও সব রকম ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার আসনের বিপরীতে টিকিট বিক্রি হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ভ্রমণের দিনগুলোতে তাত্ক্ষণিক অতিরিক্ত ২৫ ভাগ স্ট্যাডিং (দাঁড়িয়ে ভ্রমণ) টিকিট বিক্রি হবে। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামায়াত উপলক্ষে ঈদের দিন ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে চালু থাকবে চারটি বিশেষ সার্ভিস। প্রয়োজনে ঈদের পরও চালু রাখা হবে এই বিশেষ ট্রেন।
মন্ত্রী আরও জানান, যাত্রীবাহী ট্রেনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ঈদের আগের পাঁচদিন সব ধরনের মালবাহী যানচলাচল বন্ধ রাখা হবে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও দিনাজপুরের সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ থেকে পুনর্বাসনকৃত ৬৬টি যাত্রীকোচ বিভিন্ন ট্রেনে সংযুক্ত করা হবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে সবমিলিয়ে ২৭৯টি কোচ চালু রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুল কালাম আজাদও উপস্থিত ছিলেন।
