অভিনয়ের মৌসুমে

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৮:৫৭
অভিনয়ের প্রতি আলাদা একটা ভালোবাসা তৈরি হয়েছে লাক্সসুন্দরী মৌসুমীর মনে। তাই ভালো ভালো চরিত্রে অভিনয় করতেই পছন্দ করেন। এরই মধ্যে তিনি রুপালি পর্দাতেও নাম লিখিয়েছেন। অভিনয়প্রেমী এই তরুণীকে নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে নাম লেখান মৌসুমী। অনেকটা শখের বশেই রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন শত শত প্রতিযোগীকে ছাড়িয়ে যেতে থাকলেন, তখন নিজের প্রতি তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল। তাই সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছুতে পরিশ্রম করতে থাকলেন। সেই পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফসল হিসেবে ২০১১ সালে ওই প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন পুরান খুলনায় বেড়ে ওঠা এই তরুণী। তার ভাষ্যে, ‘লাক্সের অভিজ্ঞতা আসলে বুঝিয়ে বলতে পারব না। আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা হলো লাক্স। ওখানে গিয়েই আমি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করি। বিশেষ করে গ্রুমিং সেশনটা ছিল অনেক শেখার। আমার মনে হয়, লাক্স থেকে বের হয়ে কেউ এই অভিজ্ঞতা ভুলতে পারবে না। সত্যি বলতে কি, লাক্সের প্ল্যাটফর্মের জন্য আমাকে মিডিয়ার কাজ করতে সেভাবে স্ট্রাগল করতে হয়নি।’ মৌসুমী অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো—ফেরদৌস হাসানের পরিচালনায় ‘মার ছক্কা’, ওয়াহিদ আনামের ‘ভার্সিটি’, খালিদ মাহমুদ মিঠুর ‘বাংলা আমার মাতৃভাষা’, শিহাব শাহিনের ‘সপ্তাচার্য’ ইত্যাদি। এই লাক্সসুন্দরী ভবিষ্যতে নিজেকে একজন জনপ্রিয় ও ভালো অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে চান। তার ভাষ্যে, সেরা দশে থাকাকালীন তাদেরকে বিভিন্ন রকম পারফর্মেন্স করতে হয়েছে। এর মধ্যে এক পর্বে তারা নিজেদের অভিনয়-প্রতিভাও প্রদর্শন করেছেন বিচারকদের সামনে। আর তাদের অভিনয় দেখে সেসময় বিচারকরা নিজেদের ভালো লাগার কথাও জানিয়েছেন। আর সেগুলো মৌসুমীর কাছে এখন খানিকটা সুখস্মৃতি। মৌসুমীর কথায়, ‘অভিনয় রাউন্ডে একটি নাটিকায় আমার অভিনয় দেখে জনপ্রিয় অভিনেত্রী-পরিচালক আফসানা মিমি বলেছিলেন, ‘একজন পরিচালক হিসেবে আমি মৌসুমীর মতো অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে কাজ করতে চাই।’ মিমি আপার কাছ থেকে এমন প্রশংসা পেয়ে আমি সেদিন কী যে খুশি হয়েছিলাম, তা ঠিক ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। একই পর্বে আমার পারফর্মেন্স দেখে গুণী অভিনেতা-পরিচালক তৌকীর আহমেদ বলেছেন, ‘ইউ আর অ্যা পারফর্মার। আমার মনে হয়, আমি আগে কখনো এ ধরনের কোনো কমপ্লিমেন্ট কাউকে দিইনি।’ তার এই মন্তব্য আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।’ ছোটপর্দার নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে মৌসুমী নাম লিখিয়েছেন রুপালি পর্দাতেও। অনিমেষ আইচের পরিচালনায় ‘না মানুষ’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে তিনি অভিনয় করছেন। সেইসাথে বিপ্লব হায়দারের রচনা ও পরিচালনায় ‘ফিল মাই লাভ’ ছবির আইটেম সংয়ে আইটেম গার্ল হিসেবে অভিনয় করেন। বর্তমানে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ছবিতে অভিনয় করছেন লাক্সতারকা মৌসুমী হামিদ। চলতি মাস থেকেই এ ছবির শুটিং শুরু হয়েছে। অনুদানপ্রাপ্ত এ ছবিটি পরিচালনা করছেন প্রশান্ত অধিকারী। ঢাকা, শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন লোকেশনে এর শুটিং হবে। এ প্রসঙ্গে মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘এ সময়ের পাঠকপ্রিয় কবি ও সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক। ‘হডসনের বন্দুক’ তার জনপ্রিয় কিশোর উপন্যাস। এ উপন্যাসের নায়িকা হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করছি। এর চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন পরিচালক নিজেই। আমাকে এখানে একজন গোয়েন্দার সহকারী হিসেবে দেখা যাবে।’ মৌসুমী বর্তমানে একাধিক ধারাবাহিকের পাশাপাশি ঈদের খণ্ড নাটক নিয়েও ব্যস্ত রয়েছেন। এরই মধ্যে শেষ করেছেন সুমন আনোয়ারের পরিচালনায় এক খণ্ডের নাটক ‘মিউজিক ভিডিও’, রুম্মান রনির ‘মা’। সামনে অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, এসএ হক অলীক ও টিংকুর পরিচালনায় আরও কয়েকটি এক খণ্ডের নাটক। ক্যারিয়ারের মাত্র তিন বছরের ব্যবধানেই তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন তিনি। বিশেষ করে ‘রোশনি’ ধারাবাহিকের সুবাদে এপার বাংলার পাশাপাশি ওপার বাংলায়ও খ্যাতি কুড়িয়েছেন। এদিকে, মৌসুমী কলকাতার ছবিতেও অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রোশনি’র শুটিংয়ের সময় কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু দেশীয় নাটক-চলচ্চিত্রের কথা ভেবে সেখানে থিতু হতে চাইনি বলে প্রস্তাব এড়িয়ে গেছি। সবার আগে দেশের জন্য কাজ করতে চাই। আর ‘হডসনের বন্দুক’ আমার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হবে বলে মনে করছি।’