এভিসি’র স্বর্ণযুগ

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৮:৫৭
বেশ কয়েকদিন ধরেই ইউটিউবে মিউজিক টপ চার্টে দেখা যাচ্ছে ‘ওয়েক মি আপ’ গানটি। গানটিতে গেলেই সাজেস্ট মিউজিক লিস্টেও দেখা যাচ্ছে ‘ওয়েক মি আপ’ গানটির গায়কের অন্য গানগুলোও। এর মানে, বেশ কিছুদিন ধরে ভিডিওগুলো দেখা হচ্ছে। আর পাশাপাশি গুগলেও খোঁজা হচ্ছে এভিসিকে। তাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম এভিসি কী কোনো ব্যান্ডের নাম! নাকি কোনো ব্যক্তির নাম এ নিয়ে সংশয় থাকতে পারে অনেকেরই। আসলে এভিসি এসেছে টিম বার্গলিং-এর কাছ থেকে। ব্যাপারটা এমন, টিম গানগুলোর সাথে মানুষ পরিচিত হওয়া শুরু করে এভিসির হাত ধরে। টিম একাধারে একজন সুইডিস ডিজে, রিমিক্সার এবং রেকর্ড প্রডিউসার। এভিসি ডিজে ধাঁচের একটা মিক্স। যেটা খুব ভালো করতে পারতেন টিম। সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন সুরের জাদুতে। ২০১১ সালে শীর্ষ ১০০টি গানের ডিজে মিক্স লিস্টের মধ্যে ৬ নম্বরে ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, সেই সময় তিনি একটি ম্যাগাজিনের কাভারও হয়েছিলেন। তার এই মিক্স এত বেশি জনপ্রিয় ছিল যে, সেই সময় থেকেই তাকে সবাই চিনত এভিসি নামে। খ্যাতির সাথে সাথে তার নিজের নামটা কোনদিন বদলে এভিসি হয়ে গিয়েছিল তিনি নিজেও বলতে পারেন না। এর ঠিক এক বছর পর, ২০১২ সালে তার গানগুলো টপ চার্টের ৩ নম্বর পজিশনে উঠে এসেছিল। এরপর থেকে তিনি এভিসি নামেই সব সিঙ্গেল গান ও অ্যালবামগুলো মুক্তি দেন। এভিসির গানের দলে রয়েছে টেসটো, ডাফট পাঙ্ক, লেইডব্যাক লুক, এরিক, সেবাস্টিয়ান, স্টিভ এঙ্গোলো এবং এক্সওয়েল। এরা সবাই একটি টিম হিসেবে কাজ করে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই মিউজিকের মধ্যে ছিলাম। মিউজিকের মধ্যেই বড় হয়েছি। মিউজিক থেকে সব সময়ই নতুন কিছু করার কথা ভাবি। আর এই মিউজিকই আমাকে সব সময় ভালো কিছু করার উত্সাহ দিয়ে এসেছে।’ ২০১০ সালের কথা, সেই সময় থেকে এভিসি গানের জগতে তোলপাড় তুলেন। সুইডিস ডিজে জনের সাথে মিলে ‘ডোন্ট হোল্ড ব্যাক’ নামের একটি অ্যালবাম মুক্তি দেন। তাদের এই প্রজেক্টটি বেশ ভালোই ব্যবসা করেছিল। পাশাপাশি তাদের করে দিয়েছিল দারুণ জনপ্রিয়তা। এরপর বেশকিছু সিঙ্গেল ট্র্যাক মুক্তি দেওয়া হয় তাদের। সেগুলোর মধ্যে ছিল, ‘ব্রোম্যান্স’ নামের একটি ট্র্যাক। টাইটেল ছিল, ‘সিক ব্রোম্যান্স’। এটি বেলজিয়াম, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, ইউনাইটেড কিংডম এবং আমেরিকাসহ প্রায় ২০টি দেশে একসাথে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সেটিও ছিল ব্যবসাসফল। সেই বছরই অক্টোবরে আসে তাদের আরও একটি অ্যালবাম। সেটা ‘নাদিয়া আলি’র ক্লাসিক গানের রিমিক্স ছিল। তাদের এ অ্যালবামের নাম দেন ‘র্যাপচার’। কুইন ক্লাব ট্রিলজি বলা হয় এই অ্যালবামটিকে। এ অ্যালবামের সাফল্যের পর তারা অক্টোবরেই ইউরোপিয়ান এএমআই মিউজিক পাবলিকেশনের সাথে চুক্তি করেন। এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিগ ফোর নিয়ে আসা হয়। ২০১১ সালে এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে তাদের একটি ট্র্যাক মুক্তি দেওয়া হয় ‘সানসাইন’ নামে। এ ট্র্যাকের সাফল্যে ডেবিড গুয়েত্তাকে গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। এই ট্র্যাকের সাথে তার ডান্স পারফর্মেন্সের জন্য মূলত এই নমিনেশন পান তিনি। এরপর বাজার মাত করে তাদের নতুন ট্র্যাক, ‘ফেড ইন্টু ডার্কনেস’। আর এই ট্র্যাকের মধ্যে দিয়ে এভিসি তাদের সিঙ্গেল ট্র্যাক মুক্তি দেওয়া বন্ধ করে। এরপর লিওনা লুইস এবং এভিসি একসাথে কাজ করা শুরু করেন। লিওনা লুইস সেই সময়কার আরেক জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ছিলেন। ২০১১ সালে তারা দুজন মিলে ‘লেভেলস’ নামের একটি অ্যালবাম বের করেন। সেটা ভারতে শীর্ষ গানের তালিকায় উঠে এসেছিল। শুধু তাই নয়; রাশিয়া, বসনিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, জামার্নি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইটালি এবং নেদারল্যান্ডেও শীর্ষ দশের তালিকায় ছিল তাদের এই অ্যালবামটি। সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েনি যুক্তরাজ্যও। এভিসি শুধুমাত্র গানের দিক দিয়ে নয় এগিয়ে আছে চ্যারিটি দিয়েও। তারা তাদের কনসার্টের আয়ের বিশাল একটি অংশ দান করে অভাবীদের মাঝে। প্রতিবছরের কনসার্ট থেকেই সেটা করা হয়। ২০১১ সাল থেকে তারা ‘স্টার্ট হাউজ ফর হাঙ্গার’ নামের একটি সংস্থার সাথে চুক্তি করেন তারা সাহয্য করার জন্য। এ চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের মূল উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার সব অভাবীদের কাছে সাহায্যের ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া। প্রথম কয়েক বছরের মধ্যেই তারা প্রায় ১ মিলিয়ন আমেরিকানদের মাঝে তাদের সাহায্য পৌঁছে দিতে সক্ষম হন। সেই সাথে বাড়তে থাকে তাদের জনপ্রিয়তা। সেবার কার্যক্রমও বাড়াতে থাকেন তারা। শুধু আমেরিকাতেই নয়, তারা সাহায্য দিয়ে এগিয়ে যান আফ্রিকাতেও। সেখানকার স্কুলে যাতে সবাই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৩-এর শুরুতে। ২০১০ থেকে গানের জগতে প্রবেশ করলেও তারা অ্যালবামের থেকে বেশি মুক্তি দিয়েছেন তাদের সিঙ্গেল গানগুলো। আর তাদের অ্যালবামের মধ্যে ২০১১ সালে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, ‘এভিসি প্রেজেন্ট মায়ামি’ অ্যালবামটি। যা মুক্তির আগে থেকেই পেয়েছিল আকাশ সমান জনপ্রিয়তা। এরপর সেই বছরই মুক্তি দেওয়া হয়, ‘দ্য সিঙ্গেল’ নামের অ্যালবামটি। এ অ্যালবামের কয়েকটি গানের মিউজিক ভিডিও করা হয়েছিল পরবর্তীতে। সম্প্রতি তাদের নতুন অ্যালবাম মুক্তি পেয়েছে, ‘ট্রু’ নামে। মুক্তির সাথে সাথেই জনপ্রিয়তার মুখ দেখে অ্যালবামটি। সেই সাথে আরও একবার সবাইকে নিজেদের জাদু দেখালেন এভিসি।