পাঁচ প্রশ্ন

রোমানা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:০০
সিনেমা আর টিভি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিনেত্রী রোমানা। দুই মাধ্যমেই তার চাহিদা বাড়ছে। সিনেমায় দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে স্থায়ী একটি আসন তৈরি করে নিয়েছেন, নিজের অভিনয় গুণকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন রোমানা। শুরু থেকেই অভিনয় করছেন নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে। অভিনয়প্রেমী এই তরুণী এবার মুখোমুখি হয়েছেন আমাদের পাঁচ প্রশ্নের। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন রিয়াদ খন্দকার কেমন যাচ্ছে আপনার সময়টা? সব সময়ই আমার জন্য পজেটিভ। কেননা আমি সময়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিই। সময়ই মানুষকে বলে দেয়, কোন দিকে যেতে হবে। আমি জীবনের একটি মুহূর্তকেও অযথা নষ্ট করতে চাই না, আমি বরাবরই সময়কে যথার্থভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করি। বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে? কাজ নিয়ে কখনও আমার মাঝে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। আমি কখনও এমনটি চাইনি যে, আমাকে অনেক অনেক নাটকে অভিনয় করতে হবে, সব সময় টিভিপর্দায় নিজেকে দেখতে হবে। এই ভাবনা আমাকে কখনও তাড়া করেনি। আমি আসলে নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে। বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা একটু বেশি। নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করছি সমান গতিতে। মিডিয়ায় কাজ করতে এসেছিলাম ভালো লাগার জন্য সেই ভালোলাগার কাছে সত্ থাকতে চাই এবং পরিশ্রম করতে চাই নিজেকে আরও প্রমাণ করার জন্য। কোন ধরনের নাটকে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? বর্তমানে আমাদের স্ক্রিপ্টের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। এখন আর নির্দিষ্ট প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে আমাদের নাটক আটকে নেই। দৈনন্দিনের নানা ধরনের ঘটনাগুলোই উঠে আসছে আমাদের নাটকগুলোতে, সে ক্ষেত্রে আমাদের নাটকগুলোও অনেকবেশি জীবনঘনিষ্ঠ। আমি সব সময়ই ধারাবাহিক নাটক থেকে এক ঘণ্টার নাটকে অভিনয় করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটে, তাই আমার মতে অনেক অভিনয়শিল্পীরই এক ঘণ্টার নাটক বেশি পছন্দের। আর এক ঘণ্টার নাটকে চরিত্রের মাঝে ভিন্নতা থাকে, এতে অভিনয়ের দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। নাটকের মাঝে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানো সম্পর্কে আপনার মতামত দেখুন, আমাদের মিডিয়ায় বরাবরই বাইরের দেশের মিডিয়াকে বেশি ফলো করে। আইডিয়া থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই এখন কপিপেস্ট চলে আসছে। কিন্তু নাটকে বিজ্ঞাপনের বেলায় আমরা বাইরের দেশগুলোকে ফলো করি না। অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের ফলে নাটকের স্বকীয়তা নষ্ট হয়ে যায়। মাঝে মাঝে নাটক দেখতে বসলে ভুলে যাই নাটক দেখছি না বিজ্ঞাপন দেখার জন্য টিভির সামনে বসেছি। তবে বিজ্ঞাপনী সংস্থার উপর আমরা অনেকাংশের নির্ভর করি, সুতরাং এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষই পারে যথার্থ সমাধান দিতে। আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু? নাগরিক আনন্দ খুঁজে নিতে হয়। তবে নাগরিক বেদনা খুঁজে নেওয়া লাগে না, তা যেন স্বাভাবিকভাবেই চলে আসা। দেশের নাগরিক হিসেবে অবশ্যই দেশের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা আছে। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের দেশ কিন্তু ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নতির দিকে। কারও জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব যদি সত্ ও সঠিকভাবে পালন করি তাহলে সমাজে কোনো সমস্যাই থাকবে না। সবশেষে আমার দেশকে আমি একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে দেখতে চাই।