পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে ইরান সমঝোতার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির এমন বক্তব্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, রুহানির সামপ্রতিক কূটনীতিক বক্তব্যগুলো তিনি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ওবামা বলেন, পরমাণু ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধানে রুহানিকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পৃথক ভাষণ দেন হাসান রুহানি ও বারাক ওবামা। প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বক্তৃতায় রুহানি পরমাণু ইস্যুতে ইরানের দ্রুত আলোচনায় বসার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন। তবে ভাষণে তিনি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও তার প্রধান মিত্র ইসরাইলের ব্যাপারে কোন ছাড় দেননি। জানান তার নানা ক্ষোভের কথা। —খবর রয়টার্স ও বিবিসির।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতার পথ তৈরি হলেও সাধারণ পরিষদে দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে সাক্ষাত্ না হওয়া এবং অন্তত একবার তাদের দু’জনের মধ্যে করমর্দন না হওয়াতে এটাই স্পষ্ট যে দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও বিশ্বাস এত সহজে কাটছে না। যদিও হাসান রুহানি সিএনএনকে বলেছেন, তিনি সাধারণ পরিষদ চলাকালীন ওবামার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেননি কারণ দু’পক্ষেরই পর্যাপ্ত সময় ছিল না এই সভা সমন্বয় করার। যদিও আমেরিকার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সভা না করা ও করমর্দন করার সুযোগ তৈরি হয়নি ইরানের জন্যই। রুহানি বলেন, পরিবেশ বদলে যাচ্ছে, কারণ ইরানিরা চাচ্ছে সারা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করতে। এর পর তিনি ইংরেজিতে বলেন, ‘আমি আমেরিকার জনগণকে বলতে চাই, আমি ইরানের তরফ থেকে শান্তি ও বন্ধুত্ব নিয়ে এসেছি আপনাদের জন্য।’
সাধারণ পরিষদের ভাষণে হাসান রুহানি বলেন, ইরান আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় বা কোন অঞ্চলের জন্যই হুমকি নয় বরং স্থিতিশীলতা নিয়ে আসতে কাজ করছে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এ ইস্যুতে বিভেদ দূর করার জন্য একটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির আহবান জানান। তিনি বলেন ইরান, সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছে নতুন করে কোন সমস্যা তৈরি করছে না। এমন কোন ইস্যু নেই যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। এর আগে বারাক ওবামা তার ভাষণে বলেন, মি. রুহানি সমপ্রতি যে সংযমী পদক্ষেপ নিয়েছেন তাতে তিনি উত্সাহিত হয়েছেন। ওবামা বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় আসার জন্য রুহানির পদক্ষেপ একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রতিবন্ধকতাগুলো জয় করা কঠিন। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা পাহাড়প্রমাণ হয়ে দাঁড়ালেও সঙ্কট সমাধনে কূটনৈতিক পন্থাকে অবশ্যই কাজে লাগিয়ে দেখা উচিত বলে জানান ওবামা। তিনি এও বলেন, কিন্তু এ উদ্যোগ সফল হতে হলে সমপ্রীতির কথাগুলো কাজে পরিণত হতে হবে। যা হবে স্বচ্ছ এবং যাচাইযোগ্য। ইরান ইস্যু যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে চায় এবং একইসঙ্গে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেয়ার ব্যাপারেও তার দেশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানান ওবামা।
সমস্যার কূটনৈতিক সমাধানের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে এরই মধ্যে চুক্তি করার চেষ্টা চালাতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে ইসরাইল হাসান রুহানির ভাষণকে বিদ্রুপ করে বলেছে, ইরান আলোচনার নামে আসলে সময় চাইছে যাতে তলে তলে পরমাণু কর্মসূচি চালাতে পারে।
