সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে বাজেট হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫১
দশম জাতীয় সংসদ ও চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য খাতওয়ারী বাজেট প্রস্তাবনা অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মোট ২৯টি খাতে এ দুই নির্বাচনের জন্য প্রায় এক হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। সংসদ নির্বাচনের জন্য ৫শ কোটি এবং উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের জন্য ৪৮৯ কোটি বরাদ্দসহ এবার নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সম্মানী বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর খরচও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রস্তাবনাটির বিষয়ে মতামত নিতে দুয়েক দিনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের জন্য খাতওয়ারী বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। গত নির্বাচনের চেয়ে খাতওয়ারী বাজেটও বাড়ানোর হয়েছে। ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩-১৪ সালের অর্থবছরে দশম জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বরাদ্দকৃত ৯৮৯ কোটি টাকার বাজেট খাতওয়ারী বরাদ্দ দেয়া হয়। এতে সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি। উপজেলা নির্বাচনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮৯ কোটি টাকা। খাতওয়ারী অর্থ বরাদ্দের হার বিগত নির্বাচনের চেয়ে দ্বিগুণ বা অনেক ক্ষেত্রে তিনগুণ ও চারগুণ করা হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসারের সম্মানী ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ৭শ থেকে ২ হাজার এবং পোলিং অফিসারদের ৬শ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এবার প্রতি কেন্দে গড়ে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের পেছনে ব্যয় হবে ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রতি অস্থায়ী কেন্দে র ৩ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার ও প্রতি কক্ষের জন্য ১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। প্রতি কেন্দে র মনিহারি দ্রব্যের জন্য ৩শ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪শ’, ঢাকা হতে মালামাল পরিবহনে ৩০ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার, জেলা সদর হতে মালামাল পরিবহনে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার, ভোটকন্দে মালামাল প্রেরণ ও ফেরত আনয়ন বাবদ সাধারণ এলাকার ৮শ থেকে ৩ হাজার, দুর্গম এলাকার ১২শ থেকে ৫ হাজার, রিটার্নিং অফিসারের ডাক, ফ্যাক্স ও আপ্যায়ন খরচ ৩৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং অফিসারের ডাক, ফ্যাক্স ও আপ্যায়ন খরচ ৩৫ হাজার, রিটার্নিং অফিসারের যাতায়াত বাবদ সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা, সহকারী রিটার্নিং অফিসারের যাতায়াত বাবদ সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা, জেলা নির্বাচন অফিসারের ডাক, ফ্যাক্স ও আপ্যায়ন বাবদ ৩০ হাজার টাকা, থানা বা উপজেলা নির্বাচন অফিসারের ডাক, ফ্যাক্স ও আপ্যায়ন বাবদ ১৫ হাজার টাকা, জেলা নির্বাচন অফিসারের যাতায়াত বাবদ ৪০ হাজার টাকা, থানা বা উপজেলা নির্বাচন অফিসারের যাতায়াত বাবদ ২০ হাজার টাকা, ফলাফল সংগ্রহের কন্টোল রুম স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় ৬০ হাজার টাকা, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের খণ্ডকালীন করণিক ও পিয়ন বাবদ ১১ হাজার টাকা, বিভাগীয় কমিশনার ডাক, ফ্যাক্স, আপ্যায়ন ও অনুষঙ্গিক ব্যয় ৫০ হাজার টাকা, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ডাক, ফ্যাক্স, আপ্যায়ন ও অনুষঙ্গিক ব্যয় ৬০ হাজার টাকা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিগণের ওভারটাইম বাবদ প্রতিদিনের জন্য ৪০০, ৩৯৫, ৩৯০ ও ৩৮৫ টাকা হারে বরাদ্দ, নির্বাচনী তদন্ত কমিটির ব্যয় গড়ে ৬০ হাজার টাকা, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্সের ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রত্যেকের প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা, আপিল কর্তৃপক্ষ ডাক, তার, কন্ট্রোল রুম পরিচালনা ও আপ্যায়ন খরচ বাবদ ৩ লাখ টাকা, জেলা প্রশাসক/আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা/ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা/ প্রধান সমন্বয়কারী পর্যবেক্ষক, ভিজিলেন্স টিম, অবজারভেশন টিম মনিটরিং টিম এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের মনিহারি দ্রব্য ক্রয়, ডাক, যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক ব্যয় ৫০ হাজার টাকা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় সভা ও আপ্যায়ন খরচ প্রতি নির্বাচনী এলাকায় ৫০ হাজার টাকা, রিটার্নিং অফিসারের সহায়তা ও পর্যবেক্ষক টিমের পর্যবেক্ষকদের ডাক, ফ্যাক্স, আপ্যায়ন ও অনুষঙ্গিক খরচ প্রতিনির্বাচনী এলাকার জন্য ২০ হাজার টাকা, নিজস্ব পর্যবেক্ষক প্রতিদিনের জন্য ৫ হাজার টাকা ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স পরিস্কার করণ, কুলি খরচ ও পরিবহন খরচ বাবদ প্রতি ব্যালট বাক্সের জন্য ১০ টাকা হারে বরাদ্দ রাখা হয়। এছাড়া বাকি অর্থ পুরোটাই যাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে। ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ নবম সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল ১৬৫ কোটি ৫০ হাজার ৬৮৭ টাকা। এর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলায় সশস্ত্র বাহিনীর দৈনিক ভাতা, কন্টিনজেন্সি, জ্বালানি ও অতিরিক্ত সময়ের জন্য মোতায়েন বাবদ ব্যয় হয় ১০ কোটি ৩৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৪ টাকা। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য ৮৭ কোটি ৪৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬০৩ টাকা ব্যয় হয়। আইন-শৃঙ্খলায় ব্যয় হওয়া এই ৯৮ কোটি টাকার মধ্যে এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে গোয়েন্দা কার্যক্রমেই। বর্তমান সরকারের মেয়াদে তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১২০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা ব্যয় হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা খাতে।