সাহিত্য বিশ্ব

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৫১
গ্রন্থনা ও অনুবাদ :শামস আরেফিন বিদেশি সাহিত্যের প্রতি আমেরিকানদের অনীহা স্বভাবতই আমেরিকানরা বিশ্বসাহিত্যের প্রতি অনাগ্রহী। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিবছার মাত্র ৩%অনূদিত সাহিত্য আমেরিকাতে প্রকাশিত হয়। অথচ ফ্রান্সে ১৫% ও জার্মানিতে প্রতিবছর ১২% অনূদিত সাহিত্যের বই প্রকাশিত হয়। আমেরিকার পাঠক বিশ্বসাহিত্যের পাঠক হতে চায় না। মূলত সাহিত্যের ব্যাপক প্রসারের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অসংখ্য সাহিত্য পুরস্কারের প্রবর্তনের কারণে এ অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। তাই আমেরিকার জনগণ শুধু বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত নিয়ে রচিত ইংরেজি সাহিত্যের লেখকদের সাহিত্যকর্ম পাঠ করতে চায়। যেমন তারা জর্জঅরওয়েল’-এর ‘ব্রিটিশ রাজ’ পড়তে আগ্রহী, তারা জোসেফ কনার্ড-এর ‘দ্য কঙ্গো’ আর আর্নেস্তা হেমিংওয়ে-র ‘তানজানিয়া, কিউবা বা স্পেন’ নিয়ে লেখা ভ্রমণকাহিনি পড়তে ভালোবাসে। কিন্তু কোনো বিদেশি লেখকের লেখা পাঠ করে না। সালমান রুশদি ও জোনাথন ফ্র্যাঞ্জেন’র বির্তক বিখ্যাত আমেরিকান ঔপন্যাসিক জোনাথন ফ্র্যাঞ্জেন তাঁর সম্প্রতি প্রকাশিত প্রবন্ধে সালমান রুশদির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি অস্ট্রিয়ান লেখক কার্ল ক্রুসের মতো দুঃখ প্রকাশ করি, যখন দেখি সালামান রুশদির মতো ভালো লেখক টুইটারকে তোষামোদ করে।’ তিনি জনগণের সাধারণ মতামত নিয়ে গুজব সৃষ্টি করার জন্য টুইটার, ফেইসবুককে দায়ী করেন। এর উত্তরে সালমান রুশদি তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে জানান, ‘বন্ধু ফ্র্যাঞ্জেন, শুধু আমি নয়, আমার মতো মার্গারেট অ্যাটউড, জোসি কার্লোওয়েটস, অ্যাম হোমস, ন্যাথান ইংল্যান্ডার ভালোই আছি টুইটার ব্যাবহার করে। তুমি তোমার আইভরি টাওয়ারকে উপভোগ করো’। ‘ব্লিডিং এইজ’ উপন্যাসে ৯/১১ আমেরিকান সাহিত্যের কন্সপেরিসি থিউরির জনকরা অবশেষে নিজদেশের ৯/১১-এর ব্যর্থতা স্বীকার করল। সাহিত্যের মাধ্যমে সহজেই সংস্কৃতিতে ক্ষমতার বৈধতা বা অবৈধতা আরোপ করা যায়। থমাস পিনচন তাঁর সাময়িক ‘ব্লিডিং এইজ’ উপন্যাসে আমেরিকানদের বর্তমান ও ভবিষ্যত্ তুলে ধরেছেন। তিনি এতে ইঙ্গিত দিয়েছেন—কারা আসলে খুনি এবং ৯/১১-এর জন্য দায়ী। এটি বিশ্বকে পরিবর্তন করে দেওয়ার মতো ঘটনা, যাকে পরিপূর্ণ কন্সপেরেসি থিউরির বাতাস বলা যায়। বইটি পাঠ করে যে কেউ সহজেই সন্দেহে ডুবে যাবে—আসলে কি ইন্টারনেট সহজেই আমেরিকানদের মন-মগজ নিয়ন্ত্রণ করছে? লেখক নিজে সন্দেহ প্রকাশ করেন এই বলে, ‘এক সকালে হয়তো শোনা যাবে আমেরিকা নামের কোনো দেশ নেই। বরং এ দেশটির অন্য নামকরণ করা হয়েছে।’ এই বইয়ের মাধ্যমে তিনি আমেরিকার জনগণকে রাজনীতিবিদদের কন্সপেরেসি থিউরির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন জাতীয় অধঃপতনের সাথে। শেক্সপিয়রের হ্যামলেট নিয়ে বির্তক শেক্সপিয়রের নাটক হ্যামলেট নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে চলছে চরম বির্তক। এ নাটকে শেক্সপিয়র দূরদৃষ্টির প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি ইংল্যান্ড ও ইংরেজদের অতীত ইতিহাস এবং নস্টালজিক চিন্তা-চেতনা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। শেক্সপিয়রের নাটক মঞ্চায়নকারী নাট্যসংস্থা এ নাটকটি এ পর্যন্ত ১০২টিরও বেশি দেশে প্রদর্শন করেছে। কিন্তু অনেক সমালোচক হ্যামলেট নাটককে এক ধরনের নৈতিক অধঃপতনের চিত্রায়ণ বলে উল্লেখ করেন। তারা হ্যামলেটের আদর্শকে ব্রিটেনের ইংরেজি সাহিত্য ও জাতির জন্য নিন্দাজনক বলে দাবি করেন। অতীতেও এ নাটকের বাস্তবতা ব্যখ্যা করতে গিয়ে ফ্রয়েড বলেছিলেন, ‘আমরা ইচ্ছা অনুযায়ী অনেক কাজ করি না। বরং দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, বাধ্যবাধকতা, করুণ অবস্থা, নিষ্ঠুরতা ও খুনে পরিবেশের মাঝেই বেঁচে থাকি। আমরা জানি অনেক, কিন্তু কিছুই করি না। এ উপন্যাসের মাধ্যমে আমরা এই বাস্তবতা জানতে পারি’। দস্তয়েভস্কি এই উপন্যাস সর্ম্পকে বলেন, ‘ভালোবাসার প্রাপ্তি নরক ছাড়া আর কী হতে পারে?’ এই উপন্যাসের মাধ্যমে তা-ই প্রমাণিত হয়।’