শিশুর নাক দিয়ে পানি ঝরা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:১৪
সহযোগী অধ্যাপক, নাক, কান, গলা বিভাগ হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। চেম্বার: ইনসাফ বারাকাহ কিডনি এন্ড জেনারেল হাসপাতাল, ৩৩৫ মগবাজার, ঢাকা শিশুর নাক দিয়ে যখন প্রায়ই পানি ঝরে তখন বিষয়টি নিয়ে বাবা-মা চিন্তিত না হয়ে আর পারেন না। নাকের এই পানিকে সরাসরি পানি না বলে শ্লেষা বলাই শ্রেয়। সাধারণত ৪ থেকে ৮ বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে নাক শ্লেষা ঝরার সমস্যা দেখা যায়। এই বয়সে ঘন ঘন উর্ধ্বশ্বাসনালীর প্রদাহে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি শিশুদের নাক দিয়ে এই শ্লেষা ঝরার কারণ বলে মনে করা হয়। সাধারণভাবে অ্যালার্জি সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নাক দিয়ে শ্লেষা ঝরার সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। তবে দরিদ্র পরিবারের অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের মধ্যেও এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। কারণ এ ধরনের শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। এ ছাড়াও শিশুদের আশে পাশে ধূমপান করার ফলে অর্থাত্ পরোক্ষ ধূমপানের কারণেও অনেক শিশুর নাকের শ্লেষা ঝরার সমস্যায় ভুগে থাকে। নাক দিয়ে পানি বা শ্লেষা ঝরার অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে ++ভাইরাসজনিত নাকের ইনফেকশন ++অ্যালার্জি জনিত নাকের ও সাইনাসের প্রদাহ ++সাইনোসাইটিস ++শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ++নাকের আঘাত, নাকের মধ্যবর্তী বাঁকা দেয়াল, নাসারন্ধের পিছনের ছিদ্র সংকীর্ণ কিংবা বন্ধ থাকা, এডিনয়েড বেড়ে যাওয়া, টনসিলের সমস্যা ++নাকের গহ্বরে কোন বস্তু আটকে থাকা ++নাকের ঝিল্লিস্থ সিলিয়ার অস্বাভাবিক গতিময়তা, অস্বাভাবিক শ্লেষা, ঝিল্লিস্থ গ্রন্থির অস্বাভাবিকতা ইত্যাদি। অনবরত কিংবা প্রায়শ নাকের পানি বা শ্লেষা ঝরা একটি সমস্যা হলেও নাকের ঝিল্লির এই নিঃসরণের রয়েছে প্রতিরোধক ক্ষমতা। নাকের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এবং বাহ্যিক প্রতিকূল পরিবেশ থেকে নাককে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে এই শ্লেষা। সাধারণত এই শ্লেষা দেখতে পানিরমত কিংবা সাদাটে হয়ে থাকে। শ্লেষার রঙের কোন পরিবর্তন হলে বুঝতে হবে নাকে কোন ইনফেকশন হয়েছে। সাধারণভাবে হলুদ এবং সবুজাভ শ্লেষাকে সংক্রমিত শ্লেষা হিসাবে গণ্য করা হলেও অনেক সময় অধিক সংখ্যক ইয়োসিনোফিল নামক শ্বেতকণিকার উপস্থিতিতেও রঙ হলুদাভ কিংবা হালকা সবুজাভ হতে পারে। কিন্তু ঘনঘন নাকের ইনফেকশন এবং সাথে সবুজ রঙের শ্লেষা নাকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণকেই নির্দেশ করে। এছাড়া বারবার ইনফেকশনের কারণে নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে পারে, নাক ব্যথা করতে পারে, হাঁচি হতে পারে, নাক দিয়ে দুর্গন্ধ নির্গত হতে পারে। এ ধরণের সমস্যা মাসের পর মাস চলতে থাকলে একজন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে বের করতে হবে সমস্যার কারণ। রোগ নির্ণয় হলে, নির্ণীত কারণ অনুযায়ী চিকিত্সা করলেই সমস্যার সমাধার খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।