যেন পুনর্জন্ম। ১৬ বছর পর একক প্রদর্শনীর আয়োজন। শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী শিল্পপ্রেমিকদের কাছে ফিরে এলেন নতুন করে। স্বতন্ত্র ধারার কারণে তিনি বাংলাদেশের চিত্রকর্মের জগতে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার উত্তরার গ্যালারি কায়ায় গৌতম চক্রবর্তীর ‘আমি’ শীর্ষক পঞ্চম একক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পী মুর্তজা বশীর। সম্মানিত অতিথি ছিলেন শিল্পী সমরজিত্ রায় চৌধুরী ও স্থপতি শামসুল ওয়ারেস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্যালারি কায়ার পরিচালক শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী।
গৌতম চক্রবর্তী শিল্পের জগতে পা রাখেন মিনিয়েচার আর্ট নিয়ে। তার বাবা দেবদাস চক্রবর্তী বাংলাদেশের শিল্পধারা সৃষ্টির প্রথম সারির একজন শিল্পী। বাবার পথ ধরেই তার শিল্পের জগতে বিচরণ। তার চিত্রকর্ম প্রথম থেকেই শিল্পবোদ্ধাদের আকৃষ্ট করে। মিনিয়েচার আর্টের ছোট ক্যানভাসে তার করণ কৌশল প্রথম থেকেই সবার মন কেড়ে নেয়। এরপর তিনি বড় ক্যানভাসে ছবি আঁকা শুরু করেন। তার ক্যানভাসে হাতি উঠে আসে শক্তির প্রতীক হয়ে, ঘোড়া আত্মবিশ্বাস ও সামনে এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগায়। তার ‘বৌ’ সিরিজের ছবিগুলো রোমান্টিকতার পরশ বুলিয়ে দেয় দর্শকের হূদয়ে। ‘মাদার তেরেসা’ শিল্পী গৌতম চক্রবর্তীর কাজে এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন। মানুষের প্রতি নিবেদিত এই মহীয়সী নারীর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার্ঘ্য - এই সিরিজের ছবিগুলো।
গৌতম চক্রবর্তীর কাজের সঙ্গে যারা পরিচিত তাদের জন্য সুখবর এই যে, এবারের প্রদর্শনীতে এবারও তার বৌ, মিছিলের মুখগুলি, হাতি, মাদার তেরেসা, রবীন্দ্রনাথ প্রভৃতি সিরিজের ছবি স্থান পেয়েছে। তবে তার সিরিজে নতুন যুক্ত হয়েছে ‘রাগী বিড়াল’। এ প্রদর্শনীতে ‘রাগী বিড়াল’ সিরিজের বেশ কিছু ছবি স্থান পেয়েছে। এছাড়া ‘মিনিয়েচার’ ফর্মেও রয়েছে বেশ কিছু ছবি।
শিল্পী মুর্তজা বশীর বলেন, গৌতম শিল্পচর্চার শুরু থেকেই তার নিজের শিল্পভাষা সৃষ্টি করতে পেরেছেন। অনেক শিল্পীই দীর্ঘদিন ছবি আঁকার পরেও নিজস্ব ধারা সৃষ্টি করতে পারে না। গৌতম শুরু থেকেই নিজস্ব ভাষা তৈরিতে সচেষ্ট ছিল এবং তা পেরেছে। এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
শিল্পী সমরজিত্ রায় চৌধুরী বলেন, ছবি আঁকার শুরু থেকেই গৌতম তার স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করেছে। তার ছবি সবসময় মানুষকে আকৃষ্ট করে। শিল্পপ্রেমিকদের ভাবতে বাধ্য করে।
স্থপতি শামসুল ওয়ারেস বলেন, ১৬ বছর পরে হলেও গৌতমের ছবিতে তার ভাবনার ধারাবাহিকতা রয়েছে প্রদর্শনীর ছবিগুলোর মধ্যে। এ প্রদর্শনী উপলক্ষে ১০টি সেরিওগ্রাফি এবং আনিসুল হকের কবিতা নিয়ে একটি পোর্টফোলিও প্রকাশ করা হয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
চলচ্চিত্রে কবরীর চার দশকের পথচলার প্রদর্শনী:শুধু অভিনেত্রী হিসাবেই বাংলার মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি। কিন্তু সমাজ সচেতন শিল্পী হিসাবে তার জীবন এখন আবর্তিত রাজনৈতিক অঙ্গনে। ক্যামেরার সামনে তিনি যেমন সফল ক্যামেরার পেছনেও সফল হয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’টি। এখন তিনি শুধু চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী নন, তিনি একজন সংসদ সদস্যও। তাই বলে চলচ্চিত্রের সেই মিষ্টি কবরী হারিয়ে যাননি দশর্েকর হূদয় থেকে। চলচ্চিত্রের পথচলার চার দশক পেরিয়ে আসা উপলক্ষে বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী মিলনায়তনে। শুক্রবার বিকালে ‘আমারে তুমি অশেষ করেছ’ শীর্ষক এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন লেখক সৈয়দ শামসুল হক। উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ও চলচ্চিত্র-সাংবাদিক অনুপম হায়াত্। অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য কবরী ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে ও গ্রীণভ্যালী ফাউন্ডেশনের পরিচালক রেজওয়ান চৌধুরী।
দুই শতাধিক আলোকচিত্রের এ প্রদর্শনী চলবে ২ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫টা প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
নকশা কেন্দ্রের শিল্পীদের যৌথ প্রদর্শনী: শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও পটুয়া কামরুল হাসানের প্রচেষ্টায় ১৯৬০ সালে গড়ে ওঠে নকশা কেন্দ্র। কারুশিল্পকে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিসিকের অন্তর্ভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি। দেশজ শিল্পের উত্কর্ষের কাজ করা নকশা কেন্দ্রের শিল্পীদের মনের খোরাকের ছবি আঁকা হয়ে ওঠে না। তবে মনের মধ্যে সেই শিল্পচর্চার আকুতি থেকেই যায়। ছবি আঁকার সেই আকুতি থেকেই কেন্দ্রের সাবেক ও বর্তমান শিল্পীরা শিল্পচর্চার জন্য গড়ে তুলেছেন ‘আঙিনা’ নামে একটি সংগঠন। সেই সংগঠনের আয়োজনে শুক্রবার থেকে ঢাকা আর্ট সেন্টারে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী যৌথ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী।
শুক্রবার বিকালে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। নকশা কেন্দ্রে একসময়ে কাজ করেছেন দেশের কামরুল হাসান, কাইয়ুম চৌধুরী, আব্দুল মুক্তাদির, গোলাম সারোয়ারের মতো গুণী শিল্পীরা। তেমনি বর্তমানে কর্মরত শিল্পী শাহিদা আকতার, শাহিনা ইসলাম, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ইমরুল তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করছেন। কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত এমন ১৯ জন শিল্পীর ৬৮টি চিত্রকর্ম নিয়ে শুরু হচ্ছে এ প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর শেষ দিন ৩ অক্টোবর। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
