৪৮ কোটিতে বিক্রি হলো মোহিনী মিল!

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫০
কুষ্টিয়ায় আবস্থিত এককালের সাড়াজাগানো (বন্ধ) মোহিনী মিল আবারো বিক্রি করে মিল পরিচালনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। লিকুইডেশন সেল ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা মিলের প্রাক্তন মালিকের সাথে আঁতাত করে চারশ’ কোটি টাকার ঐতিহ্যবাহী মোহিনী মিল ও মিলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি মাত্র ৪৮ কোটি টাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মিল চালু না করে আবারো নতুন মালিকের কাছে বিক্রি ও হস্তান্তরের ঘটনায় শত শত শ্রমিক-কর্মচারী, মিল রক্ষা সংগ্রাম কমিটিসহ বিক্ষুব্ধ মানুষ ফুঁসে উঠেছে। সংগ্রাম কমিটি যেকোন ত্যাগের বিনিময়ে মিল রক্ষা ও মিলের জায়গা-জমি বিক্রির অপচেষ্টা প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, লিকুইডিশন সেল এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা মিলের প্রাক্তন মালিক নজরুল ইসলামের সাথে আঁতাত করে মিল বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করে। এরপর কোন দরপত্র ছাড়া চলতি বছরের মার্চে যমুনা ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও আমদানি-রপ্তানিকারক মেসার্স এনারগোটেক লিমিটেডের কাছে সকল সম্পত্তিসহ ৪৮ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেয়। উল্লেখ্য জাতীয়করণের পর অব্যাহত লোকসানের এক পর্যায়ে ১৯৮২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মিলটি লিকুইডিশন করা হয়। এরপর উন্মুক্ত টেন্ডারে ১৯৮৪ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর ২৫ কোটি ২১ লাখ টাকায় মিলটি নজরুল ইসলামের কাছে বিক্রি ও ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করা হয়। মিলের নাম পরিবর্তন করে শাহ মখদুম টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড নামকরণ হয়। কিন্তু শ্রমিক-কর্মচারীদের চরম অসন্তোষ ও লাগাতার ধর্মঘটের কারণে ১৯৮৭ সালের ১ নভেম্বর মিলটি লে-অফ ঘোষণা ও পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে মিলটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হয়। চুক্তি ভঙ্গের দায়ে ১৯৯০ সালে মালিকের কাছ থেকে মিলটি সরকার ফেরত নেয়। বর্তমান সরকার দায়-দেনা ও মামলা-মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করে ২০১১ সালের ২১ মে মিলের বিএমআরই অংশ চালু করেন। কিন্তু চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই নানা কারসাজি ও জটিলতায় পিডিএসসি কর্তৃপক্ষও মিলটি আর চালু রাখতে পারেনি। উল্লেখ্য, ১৯০৮ সালে কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ায় ৩৩ একর জমির উপর চক্রবর্তী এন্ড সন্স কোম্পানীর মালিক মোহিনী মোহন চক্রবর্তী বৃহদায়তনের কাপড়ের কল মোহিনী মিলটি স্থাপন করেন। ওই সময়ে মিলে গড়ে প্রতিদিন কাপড় উত্পাদন হতো ৫০ থেকে ৫৫ হাজার গজ। মিলে উত্পাদিত ধুতি ও শাড়ি সাধারণ মানুষের নিকট ছিল পরম সমাদৃত। মিলে ৩ শিফটে তিন হাজারেরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতো। স্বাধীনতার পর ঐতিহ্যবাহী মোহিনী মিলটি বার বার বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বন্ধ হয়ে যায়।