হবিগঞ্জে হাঁসের খামার করে এখন অনেকেই স্বাবলম্বী। এটি লাভজনক প্রমাণিত হওয়ায় অনেক বেকার যুবক হাঁসের খামার স্থাপনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সামপ্রতিককালে জেলার ভাটি অঞ্চল বিশেষ করে লাখাই, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জ উপজেলায় গড়েউঠা ছোট-বড় প্রায় ৩শ’ খামার এখানকার ডিমের চাহিদার অনেকটাই পূরণ করছে। বর্ষাকালে হাওড় এলাকায় হাঁসের খামারগুলো সহজেই নজরে পড়ে। প্রাকৃতিক পরিবেশে দিনের বেলা নেট দিয়ে ঘেরা জায়গায় এবং রাতের বেলা টিনের বেষ্টনি ও চাল দেয়া অস্থায়ী ঘরে হাঁসগুলোকে রাখা হয়। রাতের বেলা খামার মালিক কিংবা তাদের নিয়োজিত শ্রমিকরা হাঁস পাহারা দেয়। কারণ চুরি হওয়া ছাড়াও অনেক সময় হাঁসেরা দল বেঁধে হাওড়ের পানিতে ভেসে যায়।
হাওড়ের কিনারে বিভিন্ন খামারের শত শত হাঁসের বিচরণের দৃশ্য সহজেই দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। উপজেলার বামৈ গ্রামের আলী রাজা জানান, আগামী দুই সপ্তাহ পর তিনি অপেক্ষাকৃত নিচু জলাভূমি স্বজনগাঁও চক এলাকায় খামারের সকল হাঁস নিয়ে যাবেন। কার্তিক মাস নাগাদ এগুলো ডিম দেয়া শুরু করলে আয় শুরু হবে। তখন বাজারে চাহিদামত সরবরাহের কারণে ডিমের মূল্য হ্রাস পাবে। ডিম দেয়া শেষ হলে প্রতিটি হাঁস ৩শ’ ৫০ টাকা দরে বিক্রি করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে নতুন বছরে আবার হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করে চলবে খামারের স্বাভাবিক কার্যক্রম। মো. আলী রাজা আরো জানান, ১৭ বছর পূর্বে ৩শ’ হাঁস নিয়ে খামার শুরু করে এ ব্যবসায় তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া ছাড়াও স্বাবলম্বী হয়েছেন। খামার পরিচালনার জন্য তিনি কোন সংস্থা থেকে কোন ঋণ গ্রহণ করেননি। তাকে অনুকরণ করে এলাকার অনেকেই খামার স্থাপন করে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।
