চলতি বছরে দেশের মোট চাহিদার চেয়ে বেশি লবন উত্পাদন হয়েছে। কিন্তু তার পরও বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে লবন আমদানি হচ্ছে। এমনকি দেশিয় বাজারের চেয়ে বেশি দামে লবন আমদানি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, প্রতিকেজি কাঁচা লবণ আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে তিন টাকা লেগেছে। আর এর সঙ্গে জাহাজীকরণ ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক খরচ মিলিয়ে তা কেজি প্রতি সাড়ে তিন টাকা হয়ে যাবে। অন্যদিকে একই মানের লবণ দেশ থেকে কিনলে তা আড়াই টাকায় পাওয়া সম্ভব ছিল।
জানা গেছে, গতমাসের পাঁচ তারিখে কাঁচা লবণ আমদানির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সরকার। এরপর (২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) দুই লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন কাঁচা লবণ আমদানির জন্য ৭২ লাখ ৪২ হাজার মার্কিন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। সে হিসেবে প্রতিকেজি লবণের দাম পড়েছে প্রায় তিন টাকা। লবণ চাষিরা বলছেন, জমির খাজনা, পলিথিনের ব্যয় ও শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করার পর প্রতিমণ লবণের খরচ পড়ে ৯০ টাকা। মিল মালিকরা মণপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত দর দিয়ে থাকে। এতে প্রতিকেজি লবণের দাম পড়ে সর্বোচ্চ আড়াই টাকা। অন্যদিকে চলতি বছরে আট লাখ মেট্রিক টন কাঁচা লবণ উত্পাদন করা হয়েছে, যেখানে বছরে চাহিদা থাকে ৭ লাখ মেট্রিক টনের মতো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে জানা যায়, ইসলামী ব্যাংক ৮০ হাজার, এনসিসি ব্যাংক ৩০ হাজার, সাউথইস্ট ব্যাংক ২৫ হাজার, কমার্শিয়াল ব্যাংক সিলন ৬ হাজার, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার, মার্কেন্টাইল ২০ হাজার, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক এক হাজার, অগ্রণী ৪ হাজার, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ১০ হাজার, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ১৫ হাজার, এক্সিম ব্যাংক ২০ হাজার, পূবালী ব্যাংক ১০ হাজার এবং ইউসিবিএল ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাঁচা লবণ আমদানিতে ঋণপত্র খুলেছে।
