একসময়ের ফুলছড়ির তিস্তামুখ ঘাট এখন শুধুই ইতিহাস। হাজার হাজার মানুষের ভিড়, হকার আর ফেরিওয়ালাদের হৈ-হুল্লোড়, রাতের ফেরির সার্চলাইটের ঝলকানি, খাবার হোটেলের বয়দের ডাকাডাকি। কালের আবর্তনে বহুল আলোচিত সেই নৌবন্দর তার দৃশ্যপট হারিয়ে এখন শুধুই বালুচর। যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটে শত শত বছরের এই পুরাতন তিস্তামুখ ঘাট বন্ধ হওয়ায় রাজধানীর সাথে উত্তরের ৮ জেলার দূরত্ব বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। কর্ম হারিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে ঘাট এলাকার শত শত মানুষ। উত্তরের ৮ জেলার মানুষের এখন প্রাণের দাবি নৌযান চালুর পরিবর্তে ফুলছড়ির বালসিতে যমুনা নদীর উপর সড়ক ও রেলসেতু। সেতু নির্মাণ হলে পূর্বাঞ্চলের সাথে উত্তরাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ সহজ হবে। যাতায়াতে কমে আসবে সময় ও পরিবহন খরচ। একাধিক সূত্র জানায়, ১৮৯৯ সালে পাক-ভারত উপ-মহাদেশে ইংরেজ শাসনামলে প্রথম তিস্তামুখ ঘাট নৌবন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। সে সময় আইজিএন ও আরএসএন নামে ২টি কোম্পানীর ২টি জাহাজ দিয়ে প্রথমে নৌযানের যাত্রা শুরু করেছিল। যমুনা নদীর সাথে তিস্তা নদীর মিলিত স্থানের নামানুসারে ঘাটের তিস্তামুখ নামকরণ করা হয়েছিল। লর্ডরা গাইবান্ধা জেলা চিনত না, চিনত তিস্তামুখ (ফুলছড়ি) ঘাট। যমুনার ওপারে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদে ছিল আরেকটি ফেরিঘাট। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার বিশাল জনগোষ্ঠির তিস্তামুখ-বাহাদুরাবাদ ঘাট এবং সিরাজগঞ্জ-জগন্নাথগঞ্জ ঘাটের মাধ্যমে রেল যোগাযোগের মাধ্যমেই যাত্রী ও পণ্যবাহী জাহাজ পারাপার হতো। কলকাতা-আসাম রুটের লঞ্চ, স্টিমার এই ঘাটেই ভিড়তো। ঘাটে ছিল বড় বড় পাটের গুদাম। আর এই ঘাটকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল খাবার হোটেলসহ বড় বড় নানা ধরনের ব্যবসা কেন্দামো। সপ্তাহের মঙ্গল ও শনিবার ঘাটসংলগ্ন ফুলছড়ি হাট বসত। ৯০ এর পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রথমে এ রুটে চলাচলকারী একতা এক্সপ্রেস ও নর্থ বেঙ্গল মেইলের সংযোগ বন্ধ ঘোষণা করে স্টিমার সার্ভিসকে সংকুচিত করে শুধুমাত্র তিস্তা এক্সপ্রেসের স্টিমার সংযোগ বহাল রাখে। এর কিছুদিন পরই সে সংযোগও বন্ধ ঘোষণা করে যাত্রী পারাপার ব্যবস্থার চূড়ান্ত ইতিটানা হয়। ঘাটকে কেন্দ করে উপার্জনশীল কুলি শ্রমিক, হোটেল ব্যবসায়ী, কর্মচারীসহ অসংখ্য মানুষ তখন থেকে বেকার হয়ে পড়ে।
