আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় সংবাদপত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। রাষ্ট পরিচালনার ক্ষেত্রেও সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সে জন্য সংবাদপত্রকে বলা হয় ‘দ্বিতীয় পার্লামেন্ট’। সংবাদপত্র সঠিক ভূমিকা পালন করলে সেটি সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতু বন্ধন হিসাবে কাজ করতে পারে এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনে রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তবে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাস দীর্ঘদিনের নয়। প্রাচীনকালে এ উপমহাদেশে সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত রাজকর্মচারীদের পরিচয় পাওয়া গেলেও প্রতিষ্ঠানিক সংবাদপত্রের জন্ম ইংরেজ আমলে। ভেনিসীয় পর্যটক নিকোলো মানুচি মুঘোল দরবারে তার উপস্থিতির অভিজ্ঞতা দেখে লিখেছেন, “সংবাদ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত এসব তথ্য তত্কালীন সময়ের সমাজচিত্র বা রাজকীয় রোজনামচা হলেও আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী সংবাদপত্রের জন্ম ইংরেজ শাসনামলে শাসক শ্রেণীর প্রয়োজনেই। ঈস্ট ইন্ডয়া কোম্পানির কর্মচারী উইলিয়াম বোল্টস্ ১৭৬৭ সালে সংবাদপত্র প্রকাশের অনুমতি চেয়ে কোম্পানির কাছে আবেদন করেন। কিন্তু কোম্পানির ডিরেক্টরগণ অনুমতি দেননি। পরবর্তীতে ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি জেমস আগাস্টাস হিকি ‘বেঙ্গল গেজেট’ নামে প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। আরও লক্ষণীয় বিষয় হল, ১৭৮০ থেকে ১৮১৮ পর্যন্ত প্রকাশিত সমস্ত পত্রিকাই হলো ইংরেজি এবং ইউরোপীয়দের দ্বারা সম্পাদিত ও পরিচালিত। তবে ১৮১৮ সালের ১৬ মে বাঙালি মালিকানাধীন গঙ্গা কিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র ‘বাঙ্গাল গেজিটি’ প্রকাশ হয়। বাংলাদেশ থেকে ১৮৪৭ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে তত্কালীন রংপুর জেলা থেকে কালী চন্দ রায় চৌধুরীর ব্যয়ে গুরুচরণ রায়ের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘রঙ্গপুর বার্ত্তাবহ’ প্রকাশ হয়। এছাড়া রংপুর থেকে ১৮৬০ সালের এপ্রিল মাসে কাকিনার জমিদার বাবু শম্বুচন্দ রায় চৌধুরীর খরচে মধুসূধন ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক ‘রঙ্গপুর দিকপ্রকাশ’।
তবে গাইবান্ধা থেকে সর্বপ্রথম ১৯২৮ সালে ইন্দু গুপ্তের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘অগ্রদূত’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত ছিল বলে জানা যায়। এরপর উপমহাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৬১ সালের অক্টোবর মাসে ‘পাক্ষিক পূর্ব দিগন্ত’ নামে আর একটি পত্রিকা গাইবান্ধা থেকে প্রকাশ হয়। যার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন মো: আব্দুল মতিন। পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সাল পর্যন্ত। ১৯৬৩ সালে গাইবান্ধার তত্কালীন মহকুমা প্রশাসক অ ন ম ইউসুফ উদ্যোগে ‘মাসিক তিস্তা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। যার তত্ত্বাবধান করতেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট খাদেম আলী ও অফিস সহকারী গাজী সিরাজুল হক। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর গাইবান্ধা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র
সাপ্তাহিক গণদূত ১৯৭২ সালে সাপ্তাহিক কণ্ঠস্বর ১৯৭৩ সালে ‘কণ্ঠস্বর’ ১৯৭৫ সাল, সাপ্তাহিক গণপ্রহরী ১৯৭৯ সালে সাপ্তাহিক গাইবান্ধা ১৯৮২ সালে , দৈনিক ঘাঘট ১৯৯১ সালে, দৈনিক সন্ধান ১৯৯২ সালে, সাপ্তাহিক গাঁয়ের কথা ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক পান্থশালা ১৯৯১ সালে দৈনিক পলাশ ১৯৮৪ সালে, দৈনিক জনসংকেত ১৯৯৩ সালে, সাপ্তাহিক কাটাখালি ২০০১ সালে সাপ্তাহিক অনড় ২০০২ সালে সাপ্তাহিক অবিরাম ২০০২ সালে দৈনিক আজকের জনগণ ২০০৩ সালে, সাপ্তাহিক গাইবান্ধার খবর সাপ্তাহিক চলমানচিত্র ২০০৬ সালে দৈনিক মাধুকর ২০০৮ সালে, সাপ্তাহিক সুন্দরগঞ্জ ২০০৮ সালে দৈনিক গাইবান্ধার মুখ ২০১১ সালে, সাপ্তাহিক আলোকিত গাইবান্ধা, সাপ্তাহিক চলমান জবাব ২০১১ সালে, সাপ্তাহিক ডিজিটালের বিজয় ২০১০ সালে, সাপ্তাহিক রাত দিনের খবর ২০১১ সালে দৈনিক গাইবান্ধার দর্পন ২০১২ সালে, সাপ্তাহিক পলাশবাড়ী ২০১০ সালে সাপ্তাহিক আগামীর পথে: ২০১১ সালে,সাপ্তাহিক গাইবান্ধার কণ্ঠ ২০১২ সালে ও পাক্ষিক গাইবান্ধার কথা পত্রিকাটি ২০১২ সাল থেকে বের হচ্ছে।
