যানজট নিরসনে গাইবান্ধার বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্প

২৫ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৩
সীমাহীন যানজটে গাইবান্ধা জেলা শহরের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। অথচ যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রকল্পটি দীর্ঘ ২৫ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। এ কারণে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ। জানা যায়, গত ২৫ বছরে গাইবান্ধা জেলা শহরের সড়ক সংলগ্ন গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট। তারা আবার অবৈধভাবে সড়ক সংলগ্ন ফুটপাত দখল করে রেখেছে। অপরদিকে দিন দিন শহরে রিকশা, ভ্যান, ভটভটি, গ্রামবাংলা, অটোবাইক, সিএনজি, ম্যাজিক, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন মোটরযানের সংখ্যাও বেড়ে চলছে। কিন্তু সড়কগুলো প্রসার কিংবা বাইপাস নির্মাণ না হওয়ায় শহরের স্বল্প পরিসরের সড়কগুলো দিয়ে পথচারী ও যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। মফস্বল এই শহরেও যানযটের কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গাইবান্ধাবাসীকে। জেলা সওজ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধাবাসীর দাবির মুখে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৯৮৮ সালে শহরের বাইপাস সড়ক নিয়ে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠান। সেই প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে জরিপ এবং আনুষাঙ্গিক কাজ পরিচালনার জন্য ১৫ লাখ টাকার একটি থোক বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে জমি অধিগ্রহণ, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণসহ জেলা এলজিইডি ভবনের পাশ দিয়ে শুরু হয়ে পুলিশ লাইন এবং ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া হয়ে গাইবান্ধা-বালাসীঘাট সড়ক পর্যন্ত প্রস্তাবিত ৯ কিলোমিটার বাইপাস সড়কটি নির্মাণের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকার একটি স্কীম তৈরী করে সওজ। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ওই স্কীমটি প্রকল্প আকারে আলোর মুখ দেখেনি। এরপর দীর্ঘদিন থেকে বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবিতে গাইবান্ধাবাসী সভা-সমাবেশ, মানববন্ধনসহ আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। সূত্রটি আরো জানায়, পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মহল থেকে দাবি ওঠায় নতুন করে বিষয়টি আবার সামনে আসে। কিন্তু পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা-বালাসীঘাট সড়কটি মহাসড়ক না হওয়ায় ওই কারণ দেখিয়ে ওই ফাইলটি আবার মন্ত্রণালয়ে চাপা দিয়ে রাখা হয়। তবে গত অর্থ বছরের শেষের দিকে আবারো জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ নতুন করে জরিপ কাজ সম্পন্ন করে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে একটি ডিপিপি পাঠান। এজন্য ৫৬ কোটি ২৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দের একটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়। ওই প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৬০ একর জমি অধিগ্রহণসহ আলাই নদীর উপর ৭৫ মিটার দীর্ঘ একটি আর সিসি সেতু ও বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে। এই প্রস্তাবনাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় হয়ে বর্তমানে প্লানিং কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বর্তমানে এটি প্লানিং কমিশনে আছে। একনেকের বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে কাজটি শুরু করা যাবে।