গাইবান্ধার নাটক ও সংগীত জগতের রয়েছে এক অসাধারণ ঐতিহ্য। প্রাচীনকালের যাত্রাপালা, কবিগান, পদাবলী কীর্তন, বাউল প্রভৃতি লোক সংস্কৃতি চর্চার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে নানা চড়াই উত্রাই পেরিয়ে গাইবান্ধায় আধুনিক সাংস্কৃতিক চর্চা বিকশিত হয়েছে। রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামকে কেন্দ্র করেও এ অঞ্চলে নাটক ও সংগীতের ভিন্নতর ধারা তৈরি হয়েছে। যা বিপস্নবী-সংগ্রামীদের অনুপ্রাণিত করেছে। একারণে শিল্পীরা শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা নানা সময়ে নিগৃহীতও হয়েছেন।
বৃটিশ শাসনামলে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় লোকসংস্কৃতির চর্চা হলেও শহরের কয়েকটি বাসায় নিয়মিত সংগীত চর্চা হতো। ১৯১১ সালে গাইবান্ধা জর্জ করোনেশন এন্ড ড্রামাটিক ক্লাব (জিসিডিসি) প্রতিষ্ঠিত হলে নাট্যচর্চার সূচনা ঘটে। পাশাপাশি ঐ সংগঠনের মিলনায়তনে সংগীতানুষ্ঠান শুরম্ন হয়। বাসাবাড়ির চৌহদ্দি পেরিয়ে সংগীত শিল্পীরা বেরিয়ে আসেন।
নাট্য ও সংগীত শিল্পীদের অনেকেই বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলেন। গাইবান্ধার সাদুলস্নাপুর উপজেলার নলডাঙ্গার জমিদার সুরেন্দ্র চন্দ্র লাহিড়ীর পুত্র তুলসী লাহিড়ী নানামুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তাঁর অনুজ গোপাল লাহিড়ী ক্লারিওনেট ও বাঁশি এবং শ্যামাদাস লাহিড়ী এসরাজ বাজাতেন। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকায় পুলিশের নজর এড়াতে পিতৃদত্ত নাম বদলিয়ে হেমেন্দ্র চন্দ্র লাহিড়ী হয়ে যান তুলসী লাহিড়ী। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। তিনি গাইবান্ধা ছেড়ে চলে যান কোচবিহারে। পরবর্তীকালে তুলসী লাহিড়ী গোটা ভারতবর্ষে পরিচিতি পান নাট্যকার, অভিনেতা, সুরকার, সংগীত পরিচালক, চিত্র নাট্যকার এবং চলচ্চিত্রকার হিসেবে। পঞ্চাশের মহামন্বন্ত্মরের পটভূমিতে লেখা তাঁর নাটক, ছেড়াতাঁর ও দু:খীর ইমান’ অভাবিত খ্যাতি অর্জন করে। গাইবান্ধার আরেক কৃতি মানুষ পূর্নেন্দু কুমার পাল চৌধুরী। পানু পাল নামে সমাধিক পরচিত এই মানুষটি কমিউনিস্ট পাির্টর সাথে যুক্ত ছিলেন। পথনাটকের পথিকৃত্ পানু পাল বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে নাটক রচনা করে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে নির্দেশনা দিয়ে মঞ্চস্থ করেন। তিনি ভারতের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার নিমাই ঘোষ, ঋত্বিক ঘটক ও রাজেন তরফদারের ছবিতে কাজ করেন। লেখক : শিড়্গক ও সাংষ্কৃতিক কর্মী, গাইবান্ধা।
