উপজেলার দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় খোলা আকাশের নিচে চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। প্রধান শিক্ষক রায় চান দাস জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্কুলের একমাত্র ভবনটিকে ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করায় বিকল্প শ্রেণিকক্ষের অভাবে খোলা জায়গায় পাঠদান করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভবন না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ২১০ জন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য ৪ জন শিক্ষক থাকলেও শ্রেণিকক্ষের অভাবে ক্লাস নিতে পারছেন না। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তরা খসে লোহার রড বেড়িয়ে গেছে। ছাদের বিম ও দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ায় শিক্ষার্থীরা বারান্দায় বসে ক্লাস করতেও ভয় পায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য নীলকমল দাস জানান, ভবনের অবস্থা সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। তিনি শিক্ষকদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝড়-বৃষ্টি হলেই শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। তবে দ্রুত বিদ্যালয় ভবন পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেয়া না হলে পরিত্যক্ত ভবনটি যেকোন সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক মহল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিহা ফেরদৌসী বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে নিষেধ করা হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মোঃ হেমায়েতুল ফারুক ভূঞা জানান, দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনকে ইতোমধ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী ২৪টি বিদ্যালয়ের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে।
