নিজের প্রতি বিশ্বাস আর আস্থা থাকতে হবে। আর নিজের দুর্বলতার দিকে খুব বেশি মনোযোগ না দিয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে নিজের শক্তিশালী দিকের প্রতি। নিজে কী চাই- সেটা খুঁজে বের করতে হবে। নিজের সেই ভালোলাগার কাজকে বেছে নিয়েই সাজাতে হবে কর্মকৌশল। এরপর অধ্যাবসায় আর নিষ্ঠার সাথে এগিয়ে যেতে হবে কাজ নিয়ে।
অন্যরা কী বলল বা না বলল, সেদিকে নজর না দিয়ে বরং নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো- নিজেকেই বার বার প্রশ্ন করতে হবে, আমি কী চাই। এই প্রশ্নের উত্তরকেই মূল প্রেরণা ধরে এগিয়ে যেতে হবে সামনে। তা হলেই মিলবে সাফল্য। তখন অন্য যারা সমালোচনা করেছিল কিংবা নিরুত্সাহিত করেছিল, তারাও প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে তোমার। সম্প্রতি ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এক প্রেরণাদায়ক অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণ এবং বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানো অনুপ্রেরণাদাতা বক্তা সাবিরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘দ্য পাওয়ার অব ইউথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে। তরুণ উদ্যোক্তা এবং পেশাজীবীদের নতুন নতুন উদ্যোগে উত্সাহিত করতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন। সেশনের শুরুতেই সাবিরুল ইসলামের পরিচিতি তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর। বক্তব্য রাখেন বেসিসের সভাপতি এবং ‘এখনই ডটকমে’র সিইও শামীম আহসান। বাংলাদেশকে একটি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বেসিস যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, সাবিরুল ইসলামের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেশে নতুন তরুণ উদ্যোক্তা, বিশেষত আইটি উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রেখে সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে জেসিআই-এর সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল জানান, এবারে চারটি শহরে সাবিরুল ইসলাম বক্তব্য রাখলেও ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতেই এই বক্তাকে তারা হাজির করবেন।
সাবিরুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীতে এমন কোনো স্থান নেই যেখানে নতুন উদ্যোগকে সহজেই মেনে নেয়া হয়। বিশেষত যারা তরুণ এবং অল্পবয়সী তাদের অনেক উদ্যোগকেই নিরুত্সাহিত করা হয়ে থাকে। তবে সাবিরুল ইসলাম মনে করেন, বয়স কখনো বাধা নয়। সামাজিকভাবে বয়সকে যে বাধা হিসেবে দেখানো হয়, তার বাইরেও চিন্তা করা যায়। তুমি কিশোর, তোমাকে স্কুলে যেতে হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে এবং তারপর একটি চাকরি বা ব্যবসায় নামার উপযোগী হবে তুমি—এমন ধারণার বাইরে যেতে হবে। আসলে নিজেকে জানতে হবে এবং সেভাবেই নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।’
সাবিরুল বলেন, ‘বিশেষ করে তরুণ বয়সে কোনো উদ্যোগ নিলে সকলেই তার বিরোধিতা করে থাকে। এই ক্ষেত্রে আপনার সামনে দুইটি রাস্তা খোলা রয়েছে। এক, তাদের অভিযোগ এবং অপবাদ মেনে নেয়া। দুই, তাদের ভুল প্রমাণ করা। আমি দ্বিতীয় রাস্তাটিকেই বেছে নিয়েছি।’
সাবিরুল বলেন, ‘একটি প্রশ্ন সবসময়ই আমাকে তাড়া করেছে। আর তা হলো—আমি যখন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব, তখন আমাকে মানুষ কোন পরিচয়ে জানবে। নিজেকে একজন ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে আমি চাই না। বরং আমাকে দেখে যদি মানুষ অণুপ্রাণিত হয়, সেটাকেই আমি আমার বড় স্বীকৃতি বলে ধরে নেব। এই চিন্তা থেকেই আমি বিশ্বব্যাপী তরুণদের মাঝে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমার লক্ষ্য অন্তত ১০ লাখ তরুণকে উদ্দীপ্ত করা।
সেই লক্ষ্যেই ‘ইন্সপায়ার আ মিলিয়ন’ ক্যাম্পেইন নিয়ে আমি যাত্রা শুরু করি।’ ‘লোকে বলে টাকা ছাড়া নাকি কিছু হয় না। অথচ আমার এই ক্যাম্পেইন নিয়ে আমি এ পর্যন্ত বিশ্বের ২৬টি দেশে ভ্রমণ করেছি, বক্তব্য রেখেছি সাড়ে সাতশরও বেশি ইভেন্টে। এর জন্য আমাকে নিজে থেকে কোনো খরচ করতে হয়নি। আমার স্বপ্ন, আমার বিশ্বাসকে আমি অন্যদের বিশ্বাস করাতে পেরেছি। তারা আমার উপর আস্থা রেখেই এই উদ্যোগে আমাকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। কাজেই যারা টাকার জন্য আটকে রয়েছেন বলে ভাবছেন, তারা আসলে ভুল ভাবছেন। নিজেকে বিশ্বাস করুন, মানুষ আপনার চিন্তা-ভাবনাকে বিশ্বাস করবে।’
বর্তমানে ২৩ বছর বয়সী সাবিরুল ইসলাম মাত্র ১৪ বছর বয়সে নিজে বন্ধুদের নিয়ে একটি ওয়েব ডিজাইন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তিনি তরুণদের ব্যবসা শেখার জন্য একটি গেমও তৈরি করেন, যা বিশ্বব্যাপী বহুল জনপ্রিয়। তার লেখা বইগুলোও সারাবিশ্বে সমাদৃত। বিশ্বব্যাপী ১০ লাখ তরুণকে উদ্দীপ্ত করার কর্মসূচি হিসেবে ‘ইন্সপায়ার আ মিলিয়ন’ শীর্ষক যে ক্যাম্পেইনটি তিনি শুরু করেছেন, তা ইতোমধ্যেই ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়ার অনেক দেশেই আয়োজিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতা হিসেবে তিনি এবারে এসেছেন বাংলাদেশে।
