ঢাকার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ১১৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। মোট ১৩টি দশতলা ভবনে প্রতিটি ৪৭২ বর্গফুটের এ ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। মোট ১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি ভবনের ৫টি ধলপুরে, ৫টি দয়াগঞ্জে এবং ৩টি সূত্রাপুরে নির্মাণ করা হবে।
বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের মোট ৭১৫৬ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ২৯৮০ জনকে বা (৪২%) সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ হতে আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট ৪১৭৬ জন বা ৫৮ শতাংশ বর্তমানে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ১৪টি কলোনিতে অমানবিক অবস্থায় অবস্থান করছেন। তাদের জন্য এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, এর আগে পূর্ববর্তী সরকারের সময়কালে ২০০৫ সালে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ১২টি ৪তলা ভবনের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ২০০৬ সালে ১২টি ৪তলা ভবনের মধ্যে ৯টি ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু ২০০৭ সালে মে মাসে নির্মাণাধীন একটি ভবন ধসে পড়ে। ফলে সকল নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়।
এ বিষয়ে বুয়েটের একটি কমিটি ভবনসমূহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভবন নির্মাণে ত্রুটি রয়েছে বলে মতামত দেয়। পরবর্তীতে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং প্রকল্পটি চলমান রাখা বা পুররুজ্জীবিত করার কোন অবকাশ নেই মর্মে মতামত দেয়।
এক্ষেত্রে সরকারের ব্যয়িত সাড়ে ১২ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় এবং অপচয়ের দায় দায়িত্ব নিয়ে প্রকল্পটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এ ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহীদুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, সে সময়ে প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন এবং কিছু বিষয় দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) তদন্ত চলছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ১৩টি ভবন নির্মাণের প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পরবর্তী সভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির আওতায় ভবনসমূহ বিদ্যমান ৩টি কলোনির পূর্বের স্থানেই নির্মাণ করা হবে। কয়েকটি ভবন ভেঙ্গে লে-আউট প্লান সমন্বয় করে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সামাজিক পরিবেশ বিবেচনায় সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অন্যত্র সরানোর সুযোগ সীমিত বিধায় বিদ্যমান কলোনিই প্রকল্প স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পূর্বে স্থাপিত ২২৪৭৫ ফুট পাইল অপসারণ করতে হবে।
তাছাড়া বিদ্যমান ১৫০৩৬৮ বর্গফুট বিদ্যমান ভবন যা পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছিল তা ভাঙ্গা ও অপসারণ করতে হবে। প্রকল্পটি চলতি বছর শুরু হয়ে ২০১৭ সালের জুন নাগাদ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
