যে সব অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন স্থগিত করার জন্য দাবি তুলেছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী, তার কোনোটাই গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, এ ছাড়াও যে সব আপত্তি ও অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা হয়েছিল, সব খারিজ হয়ে গেছে। আপত্তিগুলো খতিয়ে দেখে গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন ১৭২ জন কাউন্সিলরের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেছে।
সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরীর অন্যতম প্রশ্ন ছিল আদালতের সার্টিফাইড নির্দেশনা নির্বাচন কমিশনের কাছে আছে কিনা। গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান এই নির্দেশনার সার্টিফাইড কপি তুলে ধরেছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন, তারা ১৬টি আপত্তি পেয়েছেন। তার মধ্যে কারো অভিযোগ টিকেনি বলেই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান, ‘আমরা প্রতিটি আপত্তি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি। গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।’
কাউন্সিলর নিয়ে আপত্তি গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় ফোরাম খ্যাত জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ আইনের আশ্রয় নেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে বলেও জানা গেল। সে চিন্তার পরিণতি যাই হোক, বিসিবির নির্বাচনের জন্য আজ মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হবে। পাঁচ হাজার টাকা একটি মনোনয়নপত্রের মূল্য।
এদিকে বিসিবি’র পরিচালক এনায়েত হোসেন সিরাজ, লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, মাহবুব আনাম, ইসমাইল হায়দার মল্লিকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা গতকাল দুপুরে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কয়েক মিনিট অবস্থান করেই তারা ফিরে আসেন। কমিশনের কার্যলয় থেকে বেরিয়ে এনায়েত হোসেন সিরাজ জানিয়েছেন, ‘পত্র-পত্রিকায় নির্বাচন সংক্রান্ত সংবাদ দেখে কিছু কাগজপত্র দেখাতে গিয়েছিলাম। আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেলে নির্বাচন কমিশনার বলেছেন তাদের কাছে কাগজপত্র রয়েছে।’
সাবের চৌধুরী কাউন্সিলর তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পর্কে বিসিবির পরিচালক মাহবুব আনাম বলেন, ‘আমরা কাউন্সিলরদের নাম চেয়েছি। বিভিন্ন ক্লাব, সংস্থা, জেলা ও বিভাগ থেকে মনোনীত নামগুলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে প্রেরণ করেছি। এখানে আমাদের কিছুই করণীয় নেই।’ তারা দাবি করেন নির্বাচনের কাউন্সিলর তালিকা কখনো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ প্রণয়ন করে না। সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন কাউন্সিলর তালিকা পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে যাচাই বাছাই করা হয়।
নির্বাচনে বিসিবি’র অনিয়ম রয়েছে বলে যে অভিযোগ তুলেছেন সাবের হোসেন, তার জবাবে এনায়েত হোসেন সিরাজ বলেন, ‘অনিয়ম হলে তো আমরাই নির্বাচন করবো না। তিনি বলেন. আমাদের চোখে অনিয়ম ধরা পড়লে আমরা নির্বাচন থেকে সরে যাবো।’
এনায়েত হোসেন সিরাজ, মাহবুব আনামদের সাথে আসা রাসুরুল হক শাহিন দাবি করেন তিনি শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের (ক্রিকেট) নির্বাহী কমিটির সভাপতি। তিনি দাবি করেন, ‘ফুটবলের শেখ রাসেলের সাথে আমাদের শেখ রাসেলের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা শুধু ক্রিকেটে দল পরিচালনা করি।’
কিন্তু এই বক্তব্যকে অসত্য বলে জানিয়েছেন শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র লিমিটেডের চক্রের ডাইরেক্টর ইনচার্জ ইসমত জামিল আকন্দ লাভলু। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট আমাদের আরেকটি খেলা। এটির জন্য আরেকটি সাব কমিটি রয়েছে। অন্যান্য ক্লাবে যেভাবে সাব কমিটি কাজ করে, আমাদের এখানেও সেটি রয়েছে।’
