কক্সবাজারের পেঁচার দ্বীপ অস্তিত্ব সংকটে

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫৪
কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচার দ্বীপ এখন অস্তিত্ব সংকটে। ফলে এখানে বসবাসকারী প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার অস্থির জীবনযাপন করছে। ইতিপূর্বেও প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার সহায়-সম্বল হারিয়ে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন বনভূমির জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। সামপ্রতিক খালের সাগর ও রেজু নদীর প্রবল ভাঙ্গনে আরো তিন শতাধিক পরিবার ভিটেছাড়া হওয়ার আশংকা নিয়ে দিনযাপন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ে আবেদন-নিবেদন করেও কোন কাজ হচ্ছে না। সরেজমিন পেঁচার দ্বীপ ঘুরে জানা গেছে, উখিয়া উপজেলা সংলগ্ন রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন একটি অংশ হিমছড়ি ও মাঙ্গালাপাড়া এ দুটি গ্রাম নিয়ে পেঁচার দ্বীপের অবস্থান। ১৯৮০’র দশকে হাজারেরও অধিক পরিবারের জনবসতি ছিল এ পেঁচার দ্বীপে। সমুদ্রের অব্যাহত তাণ্ডবে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার ভিটে-মাটি হারিয়ে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সুবিশাল পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করলেও অভিজ্ঞজনেরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে যেভাবে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে তাতে ওইসব আশ্রিতরা কোনভাবে নিরাপদ নয়। পরিবারগুলো নিতান্তই হতদরিদ্র বিধায় জীবন-মরণ ঝুঁকি নিয়ে সাগর নদীর সাথে যুদ্ধ করে এরা বেঁচে আছে বলে আক্ষেপ করে জানালেন বয়োবৃদ্ধ হোছন আলী (৬৫)। তিনি আরো জানান, যাওয়ার মতো আর কোন জায়গা-জমি নেই। তাই মরলে এখানেই মরতে হবে। চার ছেলেমেয়ের সংসার নিয়ে বিধবা জমিলা খাতুন জানান, তার স্বামী সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে কবে যে নিজের বাড়িটুকু তলিয়ে যায় তা নিয়ে শংকায় আছি। পেঁচার দ্বীপ ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল আলম জানান, একটি বেড়িবাঁধের জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করার পরও কোন কাজ হচ্ছে না। নির্বাচন আসলে প্রার্থীরা আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে ভোট আদায় করে, পরে আর কেউ খবর রাখেনা। রেজু নদীর পাড়ে বসবাসরত একাধিক পরিবার জানান, জোয়ার এলে ঘরে পানি ঢুকে। তাই মাচার উপর রাত্রি যাপন করতে হয়। সাগরে সতর্ক সংকেত দিলে চোখের ঘুম হারাম হয়ে যায়। আশেপাশে কোন সাইক্লোন সেন্টার নেই যেখানে আশ্রয় নেব। এভাবে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার নদী ও সাগরের করাল গ্রাসে সহায়-সম্পত্তি হারানোর ভয়ে শংকা নিয়ে দিন অতিবাহিত করছে।