৩২তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে উত্তীর্ণ ও সুপারিশকৃত ১ হাজার ৬৮০ প্রার্থী নিয়োগ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার কারণে হতাশা ও উদ্বেগে ভুগছেন তারা। আর্থিক ও সামাজিকভাবেও সংকটে পড়েছেন অনেকে। এ সরকারের মেয়াদকালের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি না করা হলে বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাকরি প্রার্থীরা। শিগগিরই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও উপজাতি কোটায় ১ হাজার ৪৮৯টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ২০১১ সালের ২৯ অক্টোবর ৩২তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে পিএসসি। এ বিজ্ঞাপনের বিপরীতে ২৬ হাজার ৪৪৯ জন চাকরি প্রার্থী আবেদন করেন। ২০১২ সালের ৯ মার্চ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ২ হাজার ৫৯২ জন উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৮০ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। সুপারিশকৃতদের মধ্যে ১হাজার ৩৮৫ জন মুক্তিযোদ্ধা, ২০১ জন নারী এবং ৯৪ জন উপজাতি কোটার প্রার্থী।
বিজ্ঞপ্তিতে পিএসসি জানায়, সুপারিশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। সুপারিশকৃতদের মধ্যে ৭৫৭ জন পুরুষ ও ৯২৩ জন নারী।
উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে ৬৩২ জন, কৃষি ক্যাডারে ১১৮ জন, গণপূর্ত ক্যাডারে ৮০ জন, সড়ক ও জনপথ ক্যাডারে ২৫ জন, তথ্য ক্যাডারে ১৬ জন, মত্স্য ক্যাডারে ১৫ জন, রেলওয়ে ক্যাডারে ৮জন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ক্যাডারে ৮জন ও খাদ্য ক্যাডারে ১জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। আর বিসিএস সাধারণ শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে ৭৭২ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ অন্তত ১০জন প্রার্থী জানান, ফল প্রকাশের পর গত মে মাসেই তাদের স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশও তাদের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করেছে। কিন্তু এরপর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও প্রজ্ঞাপন জারি করছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানান, প্রার্থীদের সম্পর্কে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর যাচাই-বাছাই (ভেরিফিকেশন) প্রতিবেদন দিতে দেরি করায় আবার কয়েকজন প্রার্থীর বিষয়ে একাধিকবার ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হওয়ায় প্রজ্ঞাপন জারি করতে দেরি হয়েছে। তবে সমপ্রতি ঐ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের কাছে এসেছে। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত একজন চাকরি প্রার্থী বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৩২ তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার ব্যবস্থা করে সরকার। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর প্রায় নয় মাস কেটে গেলেও নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আমাদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। এ সরকারের মেয়াদ আর অল্প কিছুদিন রয়েছে। এর মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না করা হলে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াই ঝুলে যাবে।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অপর এক বেকার প্রার্থী বলেন, পড়শোনার ও পরীক্ষার দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার হয়ে চূড়ান্ত ফলাফলে নিজের নাম দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলাম। কিন্তু এতদিনেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না হওয়ায় উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছি। পরিবার ও সমাজের পরিচিতজনরাও এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ।
এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুস সোবহান সিকদার বলেন, এ বিসিএস পরীক্ষাটি বিশেষভাবে মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও উপজাতি কোটার শূন্য পদ পূরণের জন্য গ্রহণ করা হয়। পিএসসির সুপারিশকৃতদের বিষয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও অন্যান্য শর্তের বিষয়ে যাচাই করতে তাই আগের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে। এ জন্য অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। দুই-তিনদিনের মধ্যেই তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। ওনার স্বাক্ষর হয়ে গেলেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।
