বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

আর্তমানবতার সেবায়

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:৩৪
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) রোটার্যাক্ট ক্লাব আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও আত্মউন্নয়নমূলক সংগঠন। ১৯৭৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ক্লাবটি নানা ধরনের সমাজসেবামূলক ও আত্ম উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে তাদের সরব পদযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। পরিকল্পনা, প্রশাসন এবং ব্যবস্থাপনা মূলত এ তিনটি বিষষের উপর আরটিসিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বাকৃবি ও জিটিআই-এর একদল অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষ ও সুনামধারী কর্মকর্তারা আরটিসি-এর ক্লাসসমূহ নিয়ে থাকেন। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান আহরণের সুযোগ পায়। আরটিসি’র সবচেয়ে আকষর্ণীয় দিকটি হলো পুরো ক্যাম্পটি কঠোর নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলার মধ্যদিয়ে পরিচালিত হয়। প্রতিবছর আরটিসি’র উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোটার্যাক্ট ক্লাবের সাবেক সদস্য ও বিগত আরটিসিগুলোর প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে এক বর্ণিল ও উত্সবমুখর মিলনমেলা সৃষ্টি হয়। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোটার্যাক্ট ক্লাব শুধু আরটিসি অনুষ্ঠান করে এমনটি কিন্তু নয় তারা ক্যাম্পাসে আর্তমানবতার সেবায় বেশকিছু কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো প্রতিবছর ক্লাবের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি আবাসিক হল থেকে পুরাতন বস্ত্র সংগ্রহ করে এবং এর সাথে নতুন কিছু কাপড় কিনে নিকটস্থ এতিমখানা ও গরীব-দুঃস্থ মানুষের মাঝে শীতকালে বিতরণ করে। এছাড়া ক্লাবটি প্রতিবছর চক্ষুশিবির, শিক্ষাসামগ্রী ও খাদ্য বিতরণ, বৃক্ষ রোপণসহ ক্যাম্পাসে নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। অন্যদিকে ক্লাবটি পহেলা বৈশাখ উদযাপন, নবীনবরণ, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা, ইফতার পার্টি, আন্তর্জাতিক আলোচিত ইস্যু, সেমিনার এবং নানা ধরনের আত্মউন্নয়নমূলক ও সমাজসেবামূলক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে থাকে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোটার্যাক্ট ক্লাব এরকম নানা বৈচিত্র্যময় ও ব্যতিক্রমধর্মী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে তাদের একটি আলাদা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে ক্লাবটির মোট সদস্য সংখ্যা ৫৩ জন। এছাড়াও এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৭ জন শিক্ষক উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হাসান টুটুল বলেন, আমাদের ক্লাবের সকল সদস্য অধূমপায়ী। ক্লাবটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হওয়ায় ফান্ড খুবই সীমিত। এজন্য ক্লাবটি সঠিকভাবে চলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তা দরকার। আমরা এ ক্লাবের মাধ্যমে অতীতের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে যেতে চাই।