বহুমুখী স্বপ্ন পূরণে অনন্য গাজনার বিল

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:২৫
পাবনার সুজানগরের এক ঐতিহাসিক বিলের নাম গাজনার বিল। এক সময়ে প্রচণ্ড স্রোতস্বিনী সীমাহীন গভীর এবং বিশাল বিস্তৃত এই বিলকে ঘিরে সত্যই মানুষ স্বপ্ন দেখতো। বিশেষ করে এ জনপদের মত্স্যজীবী এবং কৃষকের কাছে বিলটি ছিল বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন এবং অনেক কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণের অছিলা। বেশি দিন আগের কথা নয়। বিলটিতে তখন সারা বছর পানি থাকতো। আর পানিতে থাকতো রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল এবং বোয়ালসহ নানা প্রজাতির অফুরন্ত মাছ। বলা যায় মাছ আর পানি ছিল তখন সমান। সুজানগর পৌরসভাসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মত্স্যজীবী তখন ওই বিল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করার পাশাপাশি অন্যান্য চাহিদা মেটাতো। সেই সাথে গাজনার বিলের মাছ তখন সুজানগরবাসীর চাহিদা মিটিয়ে পাবনাসহ আশপাশের জেলায় সরবরাহ করা হতো। আর এ জনপদের কৃষক তখন সেচনালার মাধ্যমে ওই বিল থেকে পানি নিয়ে বিল সংলগ্ন জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উত্পাদন করে সুখি সমৃদ্ধ জীবনের স্বাদ নিতো। পাশাপাশি ওই সময় এলাকাবাসীর বিনোদনের জন্য গাজনার বিলে আয়োজন করা হতো নৌকা বাইচ। এ ছাড়া তখন গাজনার বিলকে বাণিজ্যিক নৌ-পথ হিসাবেও ব্যবহার করা হতো। এলাকার ব্যবসায়ীরা সারা বছর ওই বিল হয়ে বড় বড় নৌকাযোগে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ধান ও পাটসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করতেন। অথচ সময়ের পরিক্রমায় প্রমত্তা গাজনার বিল একটি শীর্ণ খালে পরিণত হয়। শুধু তাই না কেবল বর্ষার মৌসুম ছাড়া বিলে আর পানির দেখা মেলে না। আর এ সময় বিলে মাত্র ৪/৫ মাস পানির দেখা পাওয়া গেলেও মাছের দর্শন পাওয়া যায় না। ফলে এ অবস্থায় মত্স্যজীবীরা হারায় বেঁচে থাকার অবলম্বন আর কৃষকরা বঞ্চিত হয় ফসল উত্পাদনের অবারিত সুযোগ থেকে। কিন্তু দীর্ঘদিন পরে হলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের হস্তক্ষেপে আবার গাজনার বিলকে ঘিরে সূচিত হয়েছে বহুমুখী স্বপ্ন পূরণের পথ। সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই বিলকে ঘিরে প্রায় সাড়ে ৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ সব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিল খনন, শুকনা মৌসুমে বিলে পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পাম্প হাউস নির্মাণ, বিলে মত্স্য অভয়ারণ্য তৈরি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ফসল উত্পাদনের লক্ষ্যে সেচনালা নির্মাণ, ফসল চাষের উপর উন্নত প্রশিক্ষণ, আইপিএম স্কুল মাঠ বাস্তবায়ন, বিল সংলগ্ন জমির ফসল যানবাহনযোগে ঘরে তুলতে বিলের ভেতর দিয়ে সাবমারসেবল সড়ক নির্মাণ, হাঁস-মুরগী ও গরু ছাগল পালন এবং বিল পাড়ের মানুষকে বনজ সম্পদে সমৃদ্ধিকরণ ইত্যাদি।