‘সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ নয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই চলছে’

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ২০:০৭
‘সিরিয়ায় কোন গৃহযুদ্ধ নয়, চলছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। তাই এসব সন্ত্রাসীর পক্ষে কিছু দেশকে সমর্থন না দেয়ার জন্য সোমবার সাধারণ পরিষদে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ আহ্বান জানান দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী। এদিকে জাতিসংঘ পরিদর্শক দল সিরিয়ায় প্রাথমিকভাবে রাসায়নিক অস্ত্রের তদন্ত শেষে সোমবার দামেস্ক ত্যাগ করে। অন্যদিকে রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংগঠন (ওপিসিডব্লিউ) মঙ্গলবার থেকে দেশটিতে তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। আগামী ছয়দিন পর্যন্ত তারা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষনাগাদ তারা তাদের তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করবেন। সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-মুয়ালেম বলেন, সিরিয়ায় কোন যুদ্ধ নেই। তবে যেটা আছে সেটি হল সন্ত্রাসবাদ দমনে সংগঠিত সংগ্রাম। যেসব সন্ত্রাসীর নেই কোন মূল্যবোধ। ন্যায়বিচার, সমতা এবং আইন বা অধিকারের প্রতি যাদের নেই কোন শ্রদ্ধাবোধ। আল-কায়েদা এবং এর শাখা সংগঠনগুলো জাভাত আল-নুসরাহ, দি লেভান্ট ও দি ব্রিগেড অব ইসলাম সিরিয়ায় যুদ্ধ চালাচ্ছে। তারা মানুষ হত্যা করছে, করছে মানুষের হূদয় হরণ—যা আমরা প্রতিনিয়ত টেলিভিশনের পর্দায় দেখছি। তা সত্ত্বেও বেশিরভাগ দেশ এ বিষয়গুলোকে আমলে নিচ্ছে না বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই জঙ্গি তত্পরতা দমনে প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মুয়ালেম বলেন, যেসব দেশ তাদেরকে আর্থিকভাবে, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সন্ত্রাসীদের সিরিয়ায় প্রবেশের জন্য জায়গা করে দিচ্ছে সেসব দেশের প্রতি প্রয়োজনীয় ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, গত ২১ আগস্ট সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের বাইরে যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা তদন্তের জন্য অনুরোধ প্রথম আমরাই জানাই। বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহারের নিশ্চিত প্রমাণ জাতিসংঘ পরিদর্শক দল পেয়েছেন। তবে কোন গোষ্ঠী এর জন্য দায়ী তা নিশ্চিত করা যায়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুয়ালেম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নির্মূল করে অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ইসরাইলে হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্ভব নয়। এ অঞ্চলে তারাই একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর। তাই আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার উচিত হবে ইসরাইলের সাথে এ ধরনের অস্ত্রসংক্রান্ত সকল চুক্তি ও সহযোগিতা নিষিদ্ধ করা। এছাড়া আসন্ন জেনেভা বৈঠকে কোন পূর্বশর্ত ছাড়াই বর্তমান সংকট উত্তরণে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের প্রতি ইঙ্গিত দেন এই মন্ত্রী।