সময়টা এখন প্রযুক্তির। সে কারণে এখন সর্বত্রই প্রযুক্তির জয়জয়কার। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়েও তাই এগিয়ে এসেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। ইন্টারব্র্যান্ডের সাম্প্রতিক রিপোর্টই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত সব ব্র্যান্ড নিয়ে প্রতিবছরই শীর্ষ ব্র্যান্ডের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিষ্ঠানটি। গত ১৩ বছর ধরে তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ ব্র্যান্ড হিসেবে এক কথায় নিজেদের স্থানটি চিরস্থায়ী করেই রেখেছিল কোমল পানীয় ‘কোকা-কোলা’। তবে এবারে সেই স্থানটি আর ধরে রাখতে পারেনি তারা। টেক জায়ান্ট অ্যাপল তাদের হটিয়ে দখল করে নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ডের স্থানটি। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় স্থানটিও কোমল পানীয়র এই ব্র্যান্ডকে ছেড়ে দিতে হয়েছে আরেক টেক জায়ান্ট গুগল’র কাছে। আর শীর্ষ বিশটি দামি ব্র্যান্ডের মধ্যে অর্ধেকই প্রযুক্তি ব্র্যান্ড। আর শীর্ষ দশে আসলে এই সংখ্যা ৬। সেই হিসেবে বলতে গেলে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোরই আধিক্য চোখে পড়ার মতো।
প্রথম দুইটি স্থান অ্যাপল আর গুগল দখল করার পরে তৃতীয় স্থানে জায়গা হয়েছে কোকা-কোলার। চতুর্থ আর পঞ্চম স্থানটিতে আবার রয়েছে দুই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। প্রথমটি আইবিএম এবং দ্বিতীয়টি মাইক্রোসফট। তালিকার ছয়ে স্থান পেয়েছে জেনারেল ইলেকট্রনিক্স, আর সাতে রয়েছে ম্যাকডোনাল্ডস। আট এবং নয় নম্বরে আবারও উঠে এসেছে দুই টেক জায়ান্ট। আটে রয়েছে কোরিয়ার জায়ান্ট স্যামসাং এবং নয়ে রয়েছে প্রসেসর জায়ান্ট ইন্টেল। দশ নম্বর স্থানটি দখল করে নিয়েছে জাপানের অটোমোবাইল ব্র্যান্ড টয়োটা। শীর্ষ বিশের বাকি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সিসকো (১৩), এইচপি (১৫), ওরাকল (১৮) এবং অনলাইন রিটেইলার অ্যামাজন (১৯)।
এদিকে ইন্টারব্র্যান্ডের হিসেবে আইফোন, আইপ্যাড নির্মাতা অ্যাপল ব্র্যান্ডের মূল্যমান এখন ৯৮.৩ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গুগলও পিছিয়ে নেই। তাদের ব্র্যান্ডের মূল্যমান হিসাব করা হয়েছে ৯৩.৩ বিলিয়ন ডলার। কোকা-কোলার ক্ষেত্রে এই মান ৭৯.২ বিলিয়ন ডলার। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় কোকা-কোলার মূল্যমান বেড়েছে মাত্র ২ শতাংশ। অ্যাপল’র ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ২৮ শতাংশ। তবে এই হিসেবে সবচেয়ে বেশি চমক দেখিয়েছে গুগল। তারা গত এক বছরে মূল্যমান বাড়াতে সক্ষম হয়েছে ৩৪ শতাংশ। ফলাফলটাও হাতে-নাতে পেয়েছে তারা। অ্যাপল গত বছরে র্যাংকিংয়ে ২ থেকে এবারে ১-এ উঠে এসেছে। তবে গুগল দ্বিতীয় স্থানে এসেছে গত বছরের চতুর্থ স্থান থেকে। যেভাবে গুগল এগিয়ে আসছে, তাতে করে সামনের বছরে তারাই হয়ত শীর্ষ ব্র্যান্ড হিসেবে হাজির হবে ইন্টারব্র্যান্ডের তালিকায়।
