প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করার লক্ষ্য পূরণে মুক্তিযুদ্ধের বন্ধুদের সহায়তা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকারীদের চার দশকের বেশি সময় পরে বিচারের সম্মুখীন করা এটি খুবই কঠিন কাজ। তবে, আমরা বিচার সম্পন্ন করতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এবং এই কাজ শেষ করার জন্য আমরা আপনাদের সমর্থন চাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক নীতি সমুন্নত রাখার এবং নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির যুগে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে এই সংকল্প থেকে অনুপ্রেরণা লাভের প্রয়াস চালিয়ে যাবো।
প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা প্রদানকারী বিদেশি বন্ধুদের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়া অপরাধীদের রেহাই দেয়ার সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর একটি প্রক্রিয়ার সূচনা করতে সক্ষম হয়েছে। এই উদ্যোগ দোষী ব্যক্তিদের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রত্যাখ্যান করার পরিবর্তে বরং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করেছে।
আরো ৫৯ ব্যক্তি ও এক সংগঠনকে সম্মাননা
এদিকে মুক্তিযুদ্ধে যেসব হূদয়বান মানুষ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াইয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের ধারাবাহিকভাবে সম্মাননা জানাচ্ছে বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার সপ্তম পর্বে বিদেশি এসব বন্ধুদের সম্মান জানায় সরকার। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদান রাখা আরও ৫৯ জন বন্ধু ও একটি সংগঠনকে সম্মাননা জানানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে অকৃত্রিম বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে এসব মহত্প্রাণ মানুষদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুদের এবারকার সম্মাননায় ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমদ ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী গুলজারিলাল নন্দকে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ দেয়া হয়। এ ছাড়া অন্য ৫৭ ব্যক্তি ও মিসরভিত্তিক সংগঠন আফ্রো-এশিয়ান পিপলস সলিডারিটি অর্গানাইজেশনকে দেয়া হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’। ফখরুদ্দিন আলী আহমদের পক্ষে তার ছেলে পারভেজ আহমদ ও গুলজারিলাল নন্দের পক্ষে তার ছেলে তেজুস নাইক সম্মাননা গ্রহণ করেন। সপ্তমবারের মত এ সম্মাননা পর্বের বেশিরভাগ বিদেশি বন্ধুর প্রতিনিধিরা সম্মাননা গ্রহণ করেন। সম্মাননা পাওয়া উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ খান আবদুল গাফফার খান ও খান আবদুল ওয়ালী খান, ভারতের প্রখ্যাত লেখক অনিরুদ্ধ রায়, জাপানের সমাজকর্মী কেন আরিমিটসুসহ ডাক্তার, সেনা অফিসার, সাংবাদিক ও রাজনীতিকরা রয়েছেন।
সম্মাননা প্রাপ্তদের তালিকায় ছিলেন- ভারতের ৪৪ জন, পাকিস্তানের চারজন, যুক্তরাষ্ট্রের চারজন, যুক্তরাজ্যের দুজন, জাপানের দুজন, শ্রীলঙ্কার একজন, তুরস্কের একজন ও মিসরের একজন। এদিকে সম্মাননা পাওয়া বিদেশি বন্ধুরা গত সোমবার ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিকালে তারা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিদর্শন করেন। রাতে অতিথিরা তাদের সম্মানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দেয়া নৈশভোজে যোগ দেন।
