দুই বছরে পাঁচ হাজার ল্যাপটপ ছিনতাই

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৭
রাজধানীর বিজয় সরণি থেকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচক্কর পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কে অন্তত ৪ হাজার ল্যাপটপ ছিনতাই হয়েছে। আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিসিএস (বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি) কম্পিউটার সিটি মার্কেট থেকে ল্যাপটপ কিনে যাওয়ার সময় অথবা ল্যাপটপ মেরামত করতে নিয়ে আসার সময় এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গুলশান-১ ও ২ এবং এ্যালিফেন্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সিটির সামনে থেকে অন্তত আরো এক হাজার ল্যাপটপ বিভিন্ন সময়ে ছিনতাই হয়েছে। ছিনতাই করা এসব ল্যাপটপ ছিনতাইকারীরা সেলবাজারে বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। পরে ছিনতাইকারীরা বিক্রেতা সেজে যে কোন রাস্তায় বা রেস্টুরেন্টে ক্রেতার কাছে কম দামে ল্যাপটপ বিক্রি করে দেয়। এর পাশাপাশি আরো একটি চক্র রয়েছে যারা এসব ল্যাপটপ কম্পিউটার বিক্রির দোকানে দেয় বিক্রির জন্য। রাজধানীর হাতিরপুল থেকে গ্রেফতারকৃত আসিফ আজাদী, সাইফুল ইসলাম জনি ও মনির হোসেন র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্যই জানিয়েছেন। গত দুই বছরে রাজধানীর বিভিন্নস্থান থেকে অন্তত ৫ হাজার ল্যাপটপ ছিনতাই হয়েছে বলে গ্রেফতারকৃত ঐ তিন ছিনতাইকারী র্যাবের কাছে জানিয়েছে। র্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনিসুর রহমান জানান, রাজধানীর বিভিন্নস্থানে ল্যাপটপ ছিনতাইয়ের ঘটনার শত শত অভিযোগ র্যাবের কাছে জমা পড়েছে। আসিফ ও জনির কাছ থেকে উদ্ধার করা ছিনতাইকৃত ৩৮টি ল্যাপটপের মালিকানার খোঁজে গতকাল শত শত ভুক্তভোগী র্যাব-২ এর কার্যালয়ে খোঁজ নিয়েছেন। তাদের অনেকেই আসিফ, জনি ও মনির ছবি দেখে বলেছে, মোটরসাইকেলে করে তারাই তাদের ল্যাপটপ ছিনতাই করেছে। বিভিন্ন সময়ে ল্যাপটপ ছিনতাইয়ের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত তিন সদস্যের কোন সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। গতকাল শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত র্যাব-২ এর কার্যালয়ে আসা ল্যাপটপ ছিনতাইয়ের শিকার ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিসিএস কম্পিউটার সিটি মার্কেটকে কেন্দ্র করেই এই ছিনতাইকারী চক্র গড়ে উঠেছে। মার্কেট থেকে ল্যাপটপ কিনে বের হলেই ঐ ছিনতাইকারী ওঁত পেতে থাকে। পিছু নেয় ল্যাপটপ বহনকারীর। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ঘাড় থেকে ছোঁ মেরে নিয়ে যায় ল্যাপটপের ব্যাগ। কিছু বোঝার আগেই মোটরসাইকেলে করে চোখের নিমিষে মিলিয়ে যায়। ভক্তভোগী শেখ শওকত জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে রিকশায় করে গুলশান-১ নম্বরের ২৪ নম্বর সড়কে অবস্থিত তার অফিসে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তার রিকশার গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার দুই পায়ের ওপর রাখা ল্যাপটপের ব্যাগ কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। তিনি র্যাবের উদ্ধারকৃত ৩৮টি ল্যাপটপের সঙ্গে তার ছিনতাইকৃত ডেল ব্র্যান্ডের ল্যাপটপটি মিলিয়ে দেখেছেন। তবে উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপের সঙ্গে তার ছিনতাইকৃত ল্যাপটপের মিল নেই। তাই তিনি হতাশ হয়ে ফিরে যান। মিরপুর -১ নম্বর সেকশনের সুপ্রীম সোর্সিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর মিরপুর এলাকা থেকে তার দুইটি ল্যাপটপ ছিনতাই হয়। র্যাব-২ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দীন খান জানান, গত ২৪ জুন এ্যালিফেন্ট রোড এলাকা থেকে চট্টগ্রামের নিও কনসেপ্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম চৌধুরীর ল্যাপটপ ছিনতাই হয়। র্যাব তদন্ত করে দেখতে পায় যে ছিনতাইকৃত ল্যাপটপটি সেলবাজারে বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। ঐ বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে র্যাব হাতিরপুল এলাকার ইস্টার্ন প্লাজার সামনে আসিফ ও জনির কাছ থেকে ল্যাপটপটি কিনতে যায়। এরপরই এই ছিনতাইকারী চক্রের সন্ধান হয়। একই ভাবে ইউএনডিপি’র কর্মকর্তা রেজোয়ানুল জাকিরের আইপ্যাড ছিনতাই হয় গত ২ সেপ্টেম্বর। আগারগাঁওয়ে বিসিএস কম্পিউটার সিটি মার্কেট থেকে বের হওয়ার পর আগারগাঁও ক্রসিংয়ে তিনি মোটরসাইকেলে ছিনতাইকারীর শিকার হন। পরে র্যাব বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পায় জাকিরের আইপ্যাডটি কয়েক হাত ঘুরে মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের একটি দোকানে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। র্যাবের মিডিয়া এ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, রাজধানীতে এরকম ল্যাপটপ ছিনতাইকারী চক্রের অর্ধশত সদস্য সক্রিয় রয়েছে। এর আগেও এরকম ছিনতাইকারী চক্রের ২ সদস্যকে ৮টি ল্যাপটপসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। ঐ দুই সদস্যের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত সোমবার ৩৮টি ল্যাপটপ ও ১২৪টি মোবাইল ফোনসেটসহ ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।