দেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি যৌক্তিক হারে বাড়াতে হবে। বর্তমান বাস্তবতা অনুযায়ী এটি অন্তত ১২০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে উদ্যোক্তা ও সরকারের যৌথ অংশগ্রহণের ভিত্তিতে মজুরি বাড়ানো যেতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্থগিত হওয়া জিএসপি (শুল্ক ও কোটামুক্ত রপ্তানি সুবিধা) ফেরত পাওয়া সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে ইউরোপের বাজারে বিদ্যমান সুবিধা আরো সংহত হবে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) আয়োজিত জাতীয় সংলাপে বক্তারা এই মতামত দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন পিপিআরসির নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
বক্তব্য রাখেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলাম হানা, আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকার সংগঠন ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল’ বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব রায় রমেশ চন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এ তসলিম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম প্রমুখ।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা এখন পর্যন্ত সুরক্ষিত। তবে এটি নিশ্চিত বলে ধরে নেয়া ঠিক হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কখনো শোষণের অংশীদার হবে না। বাংলাদেশ সরকার, গার্মেন্টস মালিকসহ ক্রেতাদের এ বিষয়ে আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। এ প্রসঙ্গে গত জুলাইতে জেনেভায় বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
রায় রমেশ চন্দ্র বলেন, ১২০ ডলার মজুরি দেয়ার জন্য ত্রেক্রতাদেরও পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিতে হবে। আর মালিকদের মানোভাব বদলাতে হবে।
এর আগে রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে একটি তথ্য ভান্ডার অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে মোট ১ হাজার ১৬৮ জন ক্ষতিগ্রস্তের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশের কথা জানানো হয়। তথ্য ভান্ডারে থাকা ১শ জন ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে ৯ জনকে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বাকি ১১ জনকে চাকরি নিশ্চিত করা হয়। ঢাকা ইউনির্ভাসিটি ইকোনমিকস ডিপার্টমেন্ট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন(ডিইউইডিএএ) এবং অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ সংলাপটি আয়োজনে সহায়তা করেছে।
