‘রেসিডেন্ট ইভিল’ হলিউডের সায়েন্স ফিকশন অ্যাকশনধর্মী সিনেমা। আমরা কমবেশি সবাই এই সিনেমাটির সাথে পরিচিতি। সেই সাথে সিনেমাটির মূল আকর্ষণ মিলা জভোভিচ আমাদের কাছে অতি পরিচিত মুখ। তার কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
১৯৭৫ সালে ইউক্রেনে জন্মালেও শেষতক লস অ্যাঞ্জেলেসেই থিতু মিলা জভোভিচ। শৈশবেই মায়ের সঙ্গে বাবা বোগদান জভোভিচের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। মিলা থেকে যান মায়ের সঙ্গে। মা নামকরা রুশ মডেল, মঞ্চ অভিনেত্রী গ্যালিনা লগিনোভার কাছ থেকেই মূলত গান-বাজনা ও অভিনয়ে হাতেখড়ি। মেয়েকে পৃথিবীর সেরা মডেল-অভিনেত্রী বানানোর স্বপ্ন দেখেছেন মা। তার স্বপ্ন পূরণে বা নিয়তির টানে হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী এখন মিলা জভোভিচ। মাত্র ১১ বছর বয়সেই চোখে পড়েন বিখ্যাত ফটোগ্রাফার রিচার্ড অ্যাভডনের। মূলত তার হাত ধরেই মডেলিংয়ে পা রাখা। প্রথম দেখাতেই মায়ের কাছে মিলাকে ফটো মডেল বানানোর প্রস্তাব দেন রিচার্ড। বাধা দেননি মা। প্রথমবার একটি ইতালিয়ান ম্যাগাজিনের কভারগার্ল হন মিলা। ওই পিচ্চি বয়স থেকেই মডেলিংকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। মডেলিংয়ের পাশাপাশি ভেতরে ভেতরে অভিনয়ের প্রতি সব সময়ই একটা আগ্রহ ছিল মিলার। আর সেই আগ্রহ থেকেই ১২ বছর বয়স থেকে টেলিভিশনে টুকটাক অভিনয় শুরু করেন। ১৯৯১ সালে ‘রিটার্ন টু দ্য ব্লু লেগুন’-এ মূল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় আসেন। এরপর টিনএজ অভিনেত্রী হিসেবে হলিউডের পরিচালকের ভরসা হয়ে যান খুব দ্রুতই। ১৯৯৭ সালে ব্রুস উইলিসের বিপরীতে ‘দ্য ফিফথ এলিমেন্ট’ করে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ব্রেক-থ্রু আনেন মিলা জভোভিচ। প্রায় ২৭ কোটি ডলার আয় করা ছবিটি দুটি অস্কারের জন্যও মনোনীত হয়। ছবিটি করার সময়ই এর কাহিনীকার ফরাসি পরিচালক লুক বেসোঁর সঙ্গে বিয়েটাও সেরে নেন। বছর দুয়েক পরই লুক ‘দ্য মেসেঞ্জার :দ্য স্টোরি অব জোয়ান অব আর্ক’ ছবিতে মূল চরিত্রের জন্য মিলাকে প্রস্তাব দেন। অনেকটা সানন্দেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন মিলা জভোভিচ। ১৯৯৭ সালে ‘দ্য মেসেঞ্জার’ করার পর কিছু স্ক্যান্ডালের ফলে হলিউডের দর্শকরা তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও ২০০২ সালে ‘রেসিডেন্ট এভিল’-এর মাধ্যমে ফের জায়গা করে নেন ভক্তদের হূদয়ে। ‘রেসিডেন্ট এভিল’-এর দুটি সিক্যুয়ালে অভিনয় করে নিজের নামের সঙ্গে ‘তারকা’ শব্দটি পাকাপোক্ত করে নেন মিলা জভোভিচ। ‘রেসিডেন্ট এভিল’-এর প্রতিটি সিক্যুয়ালেই মানবজাতির রক্ষাকর্ত্রী হিসেবে দেখা গেছে মিলাকে। ‘রেসিডেন্ট এভিল’-এর নতুনটি চলতি বছর মুক্তি পেলেও সেটা ‘রেসিডেন্ট এভিল :আফটার লাইফ’-এর রেকর্ডকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি। ‘রেসিডেন্ট এভিল :আফটার লাইফ’ মুক্তির সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই উঠে এসেছে ছবিতে বিনিয়োগ করা পুরো ২৬.৬ মিলিয়ন ডলার। এরপর যা আয় হবে পুরোটাই যাবে লাভের খাতায়। স্বাভাবিকভাবেই ছবিটি জায়গা করে নেয় হলিউডের টপচার্টে। সায়েন্স ফিকশন হররভিত্তিক ‘রেসিডেন্ট এভিল’ সিক্যুয়েলের এটি চতুর্থ ছবি। ২০০২ সালে পল ডব্লিউ এস এন্ডারসন একটি ভিডিও গেমস থেকে এ ছবির ধারণা নেন। এই গেমসের নায়িকা এলিস হঠাত্ করেই এমন এক জায়গায় এসে পড়ে, যেখানকার সব মানুষ জোম্বিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ভয়াবহ জোম্বিদের আক্রমণ রুখে দিয়ে এলিস তাদের ধ্বংস করার অভিযানে নামে। এই সামান্য থিমটিকে নিজের মতো করে রঙচঙ দিয়ে সাজিয়ে নেন পরিচালক। আধিভৌতিক গল্পের সঙ্গে মিশিয়ে নেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর নির্যাস। নায়িকা হিসেবে বেছে নেন রুশ বংশোদ্ভুত অভিনেত্রী মিলা জভোভিচকে। দুই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে নেন মাইকেল রডরিগোয়েজ ও এরিক মাবিয়াসকে। শুরুতে পরিচালক নিজেও ভাবতে পারেননি, এদের দিয়েই তিনি বাজিমাত করবেন। সুপারহিট এই ছবিটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০৪ মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করে। এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মাতা পল এন্ডারসন ছবিটির কয়েকটি সিক্যুয়েল নির্মাণের ঘোষণা দেন। ২০০৪ সালে নির্মাণ করেন ‘রেসিডেন্ট এভিল :এপোক্লিপস’ ও ২০০৭ সালে নির্মাণ করেন ‘রেসিডেন্ট এভিল :এক্সটিঙ্কশান’। সাফল্য পান এ দুটি ছবিতেও। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নির্মাণ করলেন এই সিক্যুয়ালের চতুর্থ ছবি ‘রেসিডেন্ট এভিল :আফটার লাইফ’। অভিনয়ে ব্যস্ত হলেও মডেলিং কিন্তু ভুলে যাননি মিলা নাতাশা জভোভিচ। অভিনয় করতে করতেই মডেলিংয়ের দুনিয়ায় সুপার মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন নিজেকে। অভিনয় ও মডেলিংয়ের সঙ্গে বিকাশ ঘটে তার সংগীত প্রতিভার। গড়ে তোলেন নিজের ব্যান্ডদল। এ দলের সঙ্গে বিভিন্ন স্টেজেও গান পরিবেশন করেছেন ঢের। হলিউডের বেশ কয়েকটি ছবিতে গান গাওয়ার পাশাপাশি অন্য সংগীত শিল্পীদের জন্য গেঁথেছেন গানের কথাও। ১৯৯৪ সালে মিলা জভোভিচের ‘ডিভাইন কমেডি’ নামের মিউজিক অ্যালবাম বের হয়, বেশ জনপ্রিয়তাও পায়।
