কুষ্টিয়া
‘কোনবা পথে নিতাইগঞ্জে যাই’, ‘পরাণের বান্ধব রে, বুড়ি হইলাম তোর কারণে’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’সহ অসংখ্য বিখ্যাত গানের গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া। প্রখ্যাত এই গুণী বাউল শিল্পীকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ব্যাপক উত্সবমুখর পরিবেশে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। ফকির লালন সাঁই স্মরণে কুষ্টিয়া মহিলা ক্লাব এই মহতী উত্সবের আয়োজন করে। মহিলা ক্লাব মিলনায়তনে প্রথম পর্বে সংগঠনের সভাপতি রেহানা সুলতানাসহ আরও নেতৃবৃন্দ কাঙ্গালিনী সুফিয়ার হাতে সম্মাননা হিসেবে নগদ ১৫ হাজার টাকা, একটি ক্রেস্ট ও বিশেষ উপহার সামগ্রী তুলে দেন।
দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নিজের লেখা বিখ্যাত গানসহ লালন গীতি পরিবেশন করেন বাউল শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া। বয়সের ভারে এই গুণী কণ্ঠশিল্পী নূয়ে পড়লেও তার কণ্ঠের জাদু ও তেজসী উচ্চারণ এতটুকুও কমেনি। তার মনোমুগ্ধকর গানের সুরে বিমোহিত হন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতা। কখনও পিনপতন নীরবতা আবার কখনও শিল্পীর গাওয়া গানের তালে তাল মিলিয়ে নেচে গেয়ে ওঠেন উপস্থিতরা।
উল্লেখ্য, রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দির উপজেলার রামদিয়া গ্রামে ১৯৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন কাঙ্গালিনী সুফিয়া। তখন তার নাম ছিল টুনি হালদার। বাবা খোকন হালদার ও মা টুলু হালদার। মূলত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন যখন তার বয়স ১৪ বছর। গ্রাম্য একটি গানের অনুষ্ঠানে দর্শক-শ্রোতাদের মনজয়ের মধ্যদিয়ে। সুধির হালদার নামের একজন বাউলের সঙ্গে ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হলেও বেশিদিন তার সঙ্গে ঘর-সংসারের সুযোগ হয়নি কাঙ্গালিনী সুফিয়ার। তার দ্বিতীয় স্বামী বাউল সেকম একজন দোতরা বাদক।
১৭৭৮ সালে ওস্তাদ হালিম বয়াতির শিষ্যত্ব গ্রহণের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘টুনি হালদার’ থেকে তার নাম হয় সুফিয়া খাতুন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করে সুনাম অর্জনের একপর্যায়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাবেক ডিজি মুস্তফা মনোয়ার তাকে কাঙ্গালিনী উপাধি প্রদান করেন। সেই থেকে সুফিয়া খাতুন দেশব্যাপী কাঙ্গালিনী সুফিয়া নামে পরিচিত হন।
গানের পাশাপাশি তিনি ‘দেয়াল’, ‘নোনাজলের গল্প’ প্রভৃতি নাটকে অভিনয় করেন। ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ গানটি অবলম্বনে নোনাজলের গল্প নাটকটি নির্মিত হয়। এতে প্রধান চরিত্র একজন বাউলের ভূমিকায় তিনি অভিনয় করেন। সংগীতে তিনি এযাবত্ প্রায় ৩০টি জাতীয় ও ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।
