জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলার সময় ইরানের সঙ্গে মধুর সম্পর্কে না জড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাবধান করে দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘকে সতর্ক করে বলেন, ইরানকে বিশ্বাস করলে সেটা হবে চরম বোকামি। বিবৃতিতে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আহমাদিনেজাদ যে লক্ষ্যে এগিয়েছেন তিনি তা অব্যাহত রাখবেন। আহমাদিনেজাদ, বাঘের বেশে বাঘ আর রুহানি হল ভেড়ার কাপড় পরা নেকড়ে।’
বরাবরের মতো ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন নেতানিয়াহু। বলেছেন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি তাদের জন্য হুমকি। তাই কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান না হলে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সত্যিই হুমকি হয়ে দাঁড়ালে এককভাবে সামরিক অভিযান চালানোর ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দেন নেতানিয়াহু। ওদিকে নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক’ বলে উল্লেখ করে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার কোন উদ্দেশ্য তাদের নেই।
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা টেলিফোনে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। ঘোষণা দেন যে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনের আভাস পাচ্ছেন তিনি । দীর্ঘ ৩০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে এমন সরাসরি ফোনালাপ হলো। আর সেটাই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র ইসরাইলের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।বলাবাহুল্য, নেতানিয়াহু মনে করেন, আসলে পরমাণু অস্ত্র পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় নেয়ার কৌশল হিসাবেই সম্পর্কোন্নয়নের কথা বলছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ এবং প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ডোরানও নেতানিয়াহুর সাথে একমত। ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি জানান, ইরানে যে বিতর্কিত কিছু হচ্ছে সেটা উপেক্ষা করার উপায় নেই। তবে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার আগে সেটা খতিয়ে দেখা উচিত।
সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইরানের সাথে সব বিষয়ে স্পষ্ট আলোচনা হয়েছে তার। এ বিষয়ে কারো কাছে লুকোবার কিছু নেই। পরমাণু ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের সময় এখনো আসেনি বলে নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ব্যাপারে ওবামা এবং নেতানিয়াহুর দৃষ্টিভঙ্গি একেবারেই ভিন্ন। ইরান যাতে পারমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে গড়ে না ওঠে সে ব্যাপারে দুই দেশ একমত হলেও, পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে দু’দেশের মতভেদ রয়েছে ।
