বরিশাল, মুন্সীগঞ্জ, নীলফামারী, রাজশাহী, কিশোরগঞ্জসহ সারাদেশে কয়েকদিন পরেই শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোত্সব। মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষপর্যায়ে। দিন-রাত রঙ আর তুলির শেষ আঁঁচড়ে প্রতিমা রাঙিয়ে তুলছেন শিল্পীরা। ৫ দিনব্যাপী এবারের দুর্গোত্সব চলবে।
বরিশাল
জেলায় ৬শ’৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোত্সবের আয়োজন করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে সাজসজ্জার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। পূজা মণ্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা রঙ করার কাজ। বরিশাল মহানগরীতে ৪৩টি মণ্ডপে পূজার সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আগৈলঝাড়ায় ১শ’ ৪১টি, উজিরপুরে ১শ’ ৫টি, গৌরনদীতে ৭৬টি, বাকেরগঞ্জে ৬৫টি, বানারীপাড়ায় ৪৯টি, মেহেন্দিগঞ্জে ২১টি, সদর উপজেলায় ২০টি, মুলাদীতে ২১টি ও বাবুগঞ্জে ১৯টি।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে জানান, মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে রংয়ের কাজ। বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত্ ঘোষ বিষু জানান, এ বছর প্রতিমা নির্মাণে খরচ অনেক বেশি। গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।
মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ জেলায় ২শ’ ৫২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। বুধবার সকালে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলন কক্ষে জেলা মণ্ডপ কমিটির সাথে মতবিনিময়ে এ তথ্য জানানো হয়। সিরাজদিখানে ৮৬টি, শ্রীনগরে ৫৬টি, টঙ্গীবাড়িতে ৪৩টি, লৌহজংয়ে ২৮টি, সদরে ৩২টি এবং গজারিয়ায় ৭টি মণ্ডপে পূজা হবে।
নীলফামারী
উত্সব মুখর পরিবেশে নীলফামারী জেলার ৭শ’ ৭৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোত্সব উদযাপনের আয়োজন চলছে। নীলফামারী সদরে ২শ’ ৪৪টি, ডিমলায় ৭৭টি, ডোমারে ৮৭টি, জলঢাকায় ১শ’ ৪৯টি, কিশোরগঞ্জে ১শ’ ৪৫টি এবং সৈয়দপুরে ৭৫টি মণ্ডপ রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ সরকারিভাবে পূজামণ্ডপে ৩শ’ ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
রাজশাহী
রাজশাহীতে এ বছর ৪শ’ ০৩টি পূজামণ্ডপে পালিত হবে দুর্গোত্সব। এর মধ্যে মহানগরে ৬৬টি এবং জেলার ৯টি উপজেলায় ৩শ’ ৩৭টি পূজামণ্ডপ তৈরি হয়েছে। মণ্ডপ সাজানো ও নতুন জামা-কাপড় কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন হিন্দু সমপ্রদায়ের মানুষ।
কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জ জেলায় সর্বত্র দুর্গাপূজার প্রতিমা কারিগররা ব্যস্ত প্রতিমা নির্মাণে। প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে প্রতিমা শিল্পীরা মাটি আর রঙ তুলি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট ৩শ’ ৪৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সদরে ৪৯টি, হোসেনপুরে ২৪টি, করিমগঞ্জে ৮টি, পাকুন্দিয়ায় ১৯টি, কটিয়াদীতে ৩৫টি, বাজিতপুরে ৬৫টি, কুলিয়ারচরে ২১টি, ভৈরবে ২১টি, ইটনায় ২৪টি, নিকলীতে ১৫টি, মিঠামইনে ১৭টি, অষ্টগ্রামে ৩৬টি ও তাড়াইলে ১৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। পূজা উপলক্ষে মনোহারী, কসমেটিক্স ও রেডিমেড পোশাকের দোকানে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে।
চাঁদপুর
চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলায় এবার ১শ’ ৮২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। চাঁদপুরে পূজা উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। চাঁদপুর শহরের কালীবাড়ি মন্দির, গোপাল জিউর আখড়া, গোয়াখোলা, মির্নাভা মেস, রামকৃষ্ণ আশ্রম, কুন্ডবাড়ি, হরিসভা, নিতাইগঞ্জ ইত্যাদি মন্দিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। এবারের পূজা উপলক্ষে উচ্চ শব্দ যুক্ত কোন প্রকার মাইক সাউন্ড বক্স এবং ডেক্সসেট বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
মিরসরাইয়ে এ বছর ৮৫টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমার তৈরির কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। মিরসরাই পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উত্তম শর্ম্মা জানান, ইতিমধ্যে পূজা উদযাপন পরিষদ কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক সভা আহবান করেছেন। তবে আগের বছরের তুলনায় এ বছর মন্দিরের সংখ্যা বেড়েছে।
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
মির্জাপুর উপজেলায় বিভিন্ন ক্লাব, মন্দির এবং বাসাবাড়ির মণ্ডপের প্রতিমায় চলছে রঙ তুলির কাজ। এ বছর একটি পৌরসভা এবং ১৪ ইউনিয়নে ২শ’ ১৪টি মণ্ডপে শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. দুলাল চন্দ্র পোদ্দার ও সহকারী প্রশাসক সৈয়দ হায়দার আলী জানান, রনদা নাট মন্দির এবং রনদা প্রসাদ সাহার নিজ বাড়িতে পূজা দেখতে আসবেন ভারতীয় হাইকমিশনার, মার্কিন রাষ্ট্রদূত, জাপানি এম্বাসেডর, নেপাল, ভুটান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলসহ বর্তমান সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ,এমপি ও উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
শিবগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ও ১টি পৌরসভায় মোট ৩১টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তার জন্য প্রতি বছরের মত এ বছরও প্রতিটি মন্দিরের নিরাপত্তার জন্য ২ জন মহিলা আনসার, ৪ জন পুরুষ আনসার, ১জন পুলিশ কনেস্টেবল ও ১ জন করে গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
সাঁথিয়া (পাবনা)
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ৪০টি মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সাঁথিয়া পৌরসভায় ৪টি, ক্ষেতুপাড়ায় ১টি, আতাইকুলা ৮টি, কাশিনাথপুর ২টি, গৌড়িগ্রামে ১টি, করমজা ৮টি, নন্দনপুর ৪টি, নাগডেমরা ৬টি, ধুলাউড়ি ২টি, ধোপদহ ২টি, ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নাগডেমরা ৬টি, ধুলাউড়ি ২টি, ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ২টিসহ ১০টি মণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে পূজা উদযাপন কমিটি।
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
গৌরীপুর পৌর এলাকার দুর্গবাড়ী, বাগানবাড়ী, কালিখলা, ঋষিবাড়ী, মাষ্টারপাড়া, হরিজন পল্লী, স্টেশনরোড, মধ্যবাজার, মধ্যবাজার পালমন্দির, চকপাড়া, সরকারপাড়া মন্দির, দাপুনিয়াসহ ১১ টি ও উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নে ২টি, রামগোপালপুর ইউনিয়নে ৩টি, সিধলা ইউনিয়নে ১টি, ডৌহাখলা ইউনিয়নে ৮টি, অচিন্তপুর ইউনিয়নে ৩টি, মইলাকান্দা ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ বাজারে ৫টি, সহনাটি ইউনিয়নে ২টি, মাওহা ইউনিয়নে ৩টি ও বোকাইনগর ইউনিয়নে ৪টি সার্বজনীন বারোয়ারীসহ ৪১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
