সিরিয়ায় মানবিক সাহায্য দেয়ার আহবান নিরাপত্তা পরিষদের

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৫৭
সিরিয়ার মানবিক পরিস্থিতির ক্রম-অবনতিশীল অবস্থায় এই মুহূর্তে দেশটিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে দাতা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। তাছাড়া সীমান্ত দিয়ে যেসব সাহায্য আসছে সেসব প্রবেশে যাতে কোন বাধা না আসে সেজন্য দেশটির সরকারকে অনুরোধ জানায় সংস্থাটি। দেশটিতে পর্যাপ্ত সহায়তা করার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া ও লুক্সেমবার্গের দেয়া এক খসড়া প্রস্তাবে বুধবার একমত হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্য। শুক্রবার সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের প্রস্তাব পাস করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। সেইসাথে সিরিয়া বিষয়ে রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলতে থাকা দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটে। এরপর বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে এ বক্তব্য দেয়া হল। সিরিয়ায় দীর্ঘ ৩০ মাস ধরে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ২০ লাখের বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া এ পর্যন্ত এক লাখ ১০ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরে থাকা লাখ লাখ মানুষ সাহায্যের অপ্রতুলতার কারণে অসহনীয় জীবন-যাপন করছে। যুদ্ধ আর রক্তপাতের দরুন দেশটিতে সাহায্যও আসছে অত্যন্ত শ্লথগতিতে। সদস্য দেশগুলো এক বিবৃতিতে মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে অতিসত্ত্বর পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশারের প্রতি আহ্বান জানান। এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে দূর করারও কথা বলেন তারা। সিরিয়ার সরকারের অনুমোদনে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মাত্র ১২টি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা কাজ করছে। তারা এই যুদ্ধ-বিগ্রহপূর্ণ দেশটিতে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির বহর সঙ্গে করে মানুষের প্রয়োজনে তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে। ঐ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, চিকিত্সা সেবা ব্যবস্থা, স্কুল এবং পানি ব্যবস্থাপনার মত জায়গাগুলো যেন হামলার শিকার হতে মুক্ত থাকে। এছাড়া যেসব স্থান থেকে সহায়তা আসবে সেই রুটগুলোকেও নিরাপদ ও বাধামুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে। এদিকে আসাদ সরকার মনে করে সহায়তার নামে বিরোধীদের নিকট অস্ত্র পৌঁছানো হবে। তবে রাশিয়া পরিষদের এ প্রস্তাবে একমত হয়েছে। কেননা, এখানে শুধু প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে সীমান্ত পথে মানবিক সহায়তা প্রবেশের কথা বলা হয়েছে। যা সরকারি দাবির থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।