বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে ২৩টি পরিচালক পদের জন্য গতকাল ৩৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ঢাকার ক্লাবের জন্য দুই নম্বর ক্যাটাগরিতে ১২টি, জেলা ও বিভাগের জন্য এক নম্বর ক্যাটাগরিতে ১০টি এবং তিন নম্বর ক্যাটাগরিতে একটি পদের জন্য নির্বাচন হবে। এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে সরাসরি তিন জন পরিচালক বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
গতকাল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার দিন। এতে সভাপতি প্রার্থী নাজমুল হাসান পাপন এমপির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদের প্যানেলের সবাই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। পাপনের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন লোকমান হোসেন ভুঁইয়া। বিসিবির নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিলেও প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর জানা যাবে চূড়ান্ত লড়াইয়ে কারা থাকছেন। যদিও পাপনের বিরোধী শিবির এ নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন সাবেক তারকা ক্রিকেটার আকরাম খান, সংগঠক আ জ ম নাসির উদ্দিন, সিলেটের শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, বরিশাল থেকে আউয়াল চৌধুরী ভুলু, রংপুর থেকে আনোয়ারুল ইসলাম। এই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে কোনো মনোনয়ন জমা পড়েনি। এমনকি খুলনা অঞ্চল থেকে যে তিন প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ছিলেন, এদের মধ্য থেকে একজন জমা দেননি। যে কারণে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাজী ইনাম আহমেদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেল নির্বাচিত হয়ে যাবেন যদি মনোনয়নপত্রে ভুল-ভ্রান্তি না থাকে। নির্বাচন হতে পারে আরেকটি ক্যাটাগরিতে।
তিন নম্বর ক্যাটেগরীতে দুইটি পদের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, খালেদ মাহমুদ সুজন এবং সাবেক খেলোয়াড় দেবব্রত পাল। এই তিন জনের মধ্যে দুই জনকে প্রত্যাহার করতে হবে। নইলে নির্বাচন করতে হবে তাদের। ঢাকা অঞ্চলেও জোর লড়াই হবে। ঢাকা অঞ্চলের জন্য চারটি পদ। প্রার্থী হয়েছেন ক্লাব সমিতির সভাপতি মঞ্জুর কাদের, বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়, টাঙ্গাইলের সানিয়াত খান বাপ্পা এবং জামালপুরের মির্জা জিল্লুর রহমান। রাজশাহী অঞ্চলেও নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এই অঞ্চলের একটি পরিচালক পদের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন রাজশাহীর রাফিউস সামস প্যাডি, পাবনার সাইফুল আলম স্বপন, ইমতিয়াজ কিসলু। খেলোয়াড়দের কোটায় নির্বাচন করতে পারতেন বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়; কিন্তু তিনি নিজ জেলা মানিকগঞ্জ থেকে প্রতিনিধি হয়ে বিসিবির নির্বাচনে গতকাল মননোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদের ব্যানারে পরিচালক পদে নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হয়ে গতকাল মননোনয়পত্র জমা দিয়ে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের কোটায় অন্য যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা পদ পাওয়ার মতো যোগ্যতা রাখেন। আমি তাদেরকে জায়গা দিতেই কোটায় যাইনি। আমার জেলা মানিকগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে কাউন্সিলর হয়ে এসেছি। কারণ আমি জেলার জন্য কিছু করতে চাই। দুর্জয় বললেন, একজন ক্রিকেটার সত্যিকার অর্থে জানেন, কোন ক্ষেত্রে কাজ করলে ক্রিকেটের উন্নতি হবে।’
