‘ধর্ম ও রাজনীতি:দক্ষিণ এশিয়া’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক গণবক্তৃতা ও সম্মিলনে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ মশিউল হাসান বলেছেন, ভারত ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান প্রণয়ন করেছে, কিন্তু সমাজ এখনো ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে উঠতে পারেনি। তিনি বলেন, পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মীয় উগ্রতার উদ্ভব ঘটেছে এবং অনেক জায়গায় সেটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাও পাচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মূল প্রবন্ধে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী এই সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর আহ্বায়ক অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬ দুইবার ক্ষমতায় থেকে বিএনপি-জামায়াতের ধর্মান্ধ শক্তি ধর্মের অপব্যবহার করে ধর্মপ্রাণ মানুষকে প্রভাবিত করেছে। সে সময় ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের আখড়া হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। এ জন্য তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্য আহবান জানান।
দীপু মনি বলেন, ‘কেবল দক্ষিণ এশিয়া নয়, সারা বিশ্বের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে ধর্মীয় উগ্রবাদ। এই অবস্থা থেকে প্রতিটি রাষ্ট্রকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের তিন হাজার বছরের সংস্কৃতি হলো ধর্মীয় সহাবস্থানের সংস্কৃতি। এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র এক বছর পরের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের চার মূলনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে স্বাধীনতার ২৯ বছর পর ১৯৭৬ সালে সংবিধান সংশোধন করে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতিতে ফিরিয়ে আনা হয়।’
আন্তর্জাতিক এই সম্মিলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন এমপি। এছাড়াও এই সম্মিলনে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দক্ষিণ এশীয় বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া ধর্মীয় উগ্রতার উদ্ভব সম্ভব নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ ধর্মীয় উগ্রতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এ জন্য মূলত ক্ষমতাসীনরা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে দায়ী। রাষ্ট্র সচেতন হলে ধর্মীয় উগ্রতা রোধ করা সম্ভব বলে মত দেন তারা।
