আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য এমপিও ইস্যুই যথেষ্ট

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১৭
সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে এমপিওভুক্তি ইস্যুটি পরাজয়ের জন্য যথেষ্ট। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদি তা করা না হয় তাহলে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সর্বশেষ আইন প্রয়োগ করতে সরকার বাধ্য হবে। ঐদিন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষ দিকে তিনটি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির বিষয় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রী নিজ দলের সংসদ সদস্যদের প্রশ্নবানে জর্জরিত হন। অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা না হলে এটি আগামী নির্বাচনে আমাদের পরাজয়ের জন্য যথেষ্ট। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুহাম্মদ ইমাজউদ্দিন প্রমাণিকসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রশ্ন রাখেন, সরকারের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে। আমাদের কাছ থেকে তালিকা নেয়ার পরও এলাকার স্কুল কেন এমপিওভুক্তি করা হয়নি? মুহাম্মদ ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক বলেন, আমরা বাজেটে দুই লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি। কিন্তু মাত্র এক হাজার কোটি টাকার জন্য প্রত্যেক সংসদ সদস্যের এলাকায় তিনটি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন এমপিওভুক্ত করা হবে না? অর্থমন্ত্রী বা শিক্ষামন্ত্রীর টাকা নয়, এসব টাকা জনগণের। তাই কোথা থেকে অর্থ পাবেন জানি না। এমপিওভুক্তি করতে হবে। এই দাবি আদায় করেই আমরা সংসদ থেকে চলে যাব। জবাব দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, অর্থ বরাদ্দ না পেলে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব নয়। অর্থমন্ত্রী অতিরিক্ত এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেই সকল সংসদ সদস্যের দাবি পূরণ করা সম্ভব হবে। জবাব দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এমপিওভুক্তি করার জন্যই প্রত্যেক সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে তিনটি করে স্কুলের তালিকা নিয়েছিলাম। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ না থাকায় তা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে আমরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেন-দরবার করে যাচ্ছি। অর্থ বরাদ্দ পেলেই এমপিওভুক্তি করা সম্ভব হবে। নইলে আমাদের পক্ষে এমপিওভুক্তি করা সম্ভব হবে না। স্কুলে ভর্তিতে বাড়তি ফি : আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলী জানতে চান, গত বছর ৪৬টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভর্তির সময় সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি টাকা নেয়া হয়েছে। বাড়তি টাকা কি ফেরত দেয়া হবে? জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত বছর বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ফি ফেরত দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।