আবার বৃষ্টি-বিপাকে নিউজিল্যান্ড

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১৯
নিয়তির ফেরে আবার অনুশীলন ম্যাচে বঞ্চিত হতে চলেছে নিউজিল্যান্ড। উপমহাদেশীয় দেশগুলোর একটা চিরকালের অভিযোগ ছিল, নিউজিল্যান্ডে গিয়ে তারা ঠিকমতো আতিথ্য পায় না! মানে, কন্ডিশনের সঙ্গে ধাতস্থ হতে অনুশীলন ম্যাচ থাকে না সূচীতে। ২০১০ সালে সেই অভিযোগটাই নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়রা করেছিলেন। বাংলাদেশে এসে তারা একমাত্র যে অনুশীলন ম্যাচ পেয়েছিলেন, সেটিও ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। তার ফল হিসেবে হোক, আর বাংলাদেশের দাপটে হোক; হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার পর কিউইরা বেশ অনুযোগ করেছিল এই অনুশীলন ম্যাচের অভাব নিয়ে! নিয়তির কী অদ্ভূত খেলা! এবারও সম্ভবত নিউজিল্যান্ডকে সেই অভিযোগটা করতে হবে। শেষ পর্যন্ত টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফল যাই হোক না কেন; সম্ভবত অনুশীলন ম্যাচ ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দলকে। অন্তত গতকাল যেভাবে তিন দিনের ম্যাচের প্রথম দিনটি ভেসে গেছে, তাতে চট্টগ্রামের এই ম্যাচ আর আলোর মুখ দেখবে বলে কেউই আশা করছেন না! এই অনুশীলন ম্যাচ ভেসে যাওয়ায় নিউজিল্যান্ডের আফসোসের সীমা থাকার কথা নয়। যদিও নিউজিল্যান্ডের বেশ কয়েক জন খেলোয়াড় ‘এ’ দলের শ্রীলঙ্কা সফর এবং ভারতে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে উপমহাদেশের কন্ডিশনে বেশ ধাতস্থ হয়ে ফিরেছেন। তারপরও দলটির দল হিসেবে এই কন্ডিশনে মানিয়ে নেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকারই কথা। কাল দিনের খেলা পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ার পর এই দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশে স্বীকারই করে ফেললেন দলটির সিনিয়র ব্যাটসম্যান পিটার ফুলটন। অকপটেই এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মেনে নিলেন, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সুযোগটা হারানো তাদের জন্য একটা বড় ক্ষতির ব্যাপার হতে পারে, ‘প্রথম দিনের খেলাটা একেবারে বাতিল হয়ে যাওয়াটা অবশ্যই হতাশাজনক। কিন্তু বৃষ্টির ওপর তো কারো হাত নেই। আশা করি, পরের দু’ দিন খেলা হবে।’ সেটা হওয়া এখানে মানিয়ে নেয়ার জন্য খুব জরুরি কিউইদের। অবশ্য এই মেঘলা আকাশ, স্যাঁতসেতে আবহাওয়া দেখে কন্ডিশন নিয়ে একটু আশাবাদী হতে পারেন নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়রা। মনে করতে পারেন, অন্তত পেস সহায়ক চিরায়ত নিউজিল্যান্ডের উইকেট পেতে পারেন এখানে। অবশ্য ফুলটনের কথায় মনে হল না, তিনি খুব আশাবাদী। তিনি বাংলাদেশের উইকেটই আশা করছেন। আর সেখানেই ভালো করার ব্যাপারে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি করলেন, ‘যে কন্ডিশনই হোক, আমাদের সেরা পারফরম্যান্স করার বিকল্প নেই। আমরা ভালো করেই জানি, যাই হোক, এখানে নিউজিল্যান্ডের আবহাওয়া পাবো না। আমরা আশাবাদী যে উপমহাদেশের এই কন্ডিশনেই ভালো করতে পারবো।’ যদিও পুরো ব্যাপারটায় মনে হতে পারে, এই ম্যাচটি বাতিল হয়ে গেলে নিউজিল্যান্ডেরই সব ক্ষতি হবে; আর বাংলাদেশের হবে শুধু উপকার। কিন্তু বাংলাদেশের সহঅধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ পরিষ্কার বললেন, ম্যাচটা অনুশীলনের জন্য তাদেরও খুব দরকার। একই কথা বললেন, দেশে থাকা জাতীয় দলের একমাত্র নির্বাচক হাবিবুল বাশারও, ‘যদিও ছেলেরা খেলার মধ্যেই ছিল এবং আমাদের কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কোনো তাগিদ নেই; তারপরও টেস্ট একাদশ বেছে নেয়ার জন্য হলেও এই ম্যাচটা প্রয়োজনীয়।’ এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। টেস্ট একাদশ, বিশেষ করে দ্বিতীয় পেসার ও তিন নম্বর ব্যাটসম্যান খুঁজে পেতে এই ম্যাচটা দরকার ছিল বাংলাদেশের। বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্টগুলোতে তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ফিক্সিংয়ের দায়ে তিনি সাময়িক নিষিদ্ধ থাকায় এখন এই পজিশনটার দাবিদার তিন দারুণ ইনফর্ম ব্যাটসম্যান—মোমিনুল হক, মার্শাল আইয়ুব ও নাঈম ইসলাম। এই তিনজনের ভেতর থেকে কে একাদশে জায়গা পাবেন, এটা এই ম্যাচে ঠিক হয়ে যেতে পারত। সেটা হল না। সেই সঙ্গে রবিউল ইসলাম ও আল আমিনের মধ্যে পেসার হিসেবে কে একাদশে রুবেল হোসেনের সঙ্গী হবেন, তাও হয়তো বোঝা যেত এখানে। সেটা থেকেও বঞ্চিত রইল বাংলাদেশ। তবে এই ‘সুখের বঞ্চনা’ নিয়ে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই আফসোস করবে না। কারণ তাদের নির্বাচক হাবিবুল রাখঢাক না করেই বললেন, ‘আমাদের হয়তো সামান্য ক্ষতি হবে। তবে আফসোস করলে নিউজিল্যান্ডকেই করতে হবে। ওরাই বেশি মিস করবে।’ সেই মিস করার ফলটা আগের মতো হলেই বাংলাদেশ খুশী।