সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪১
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, দেশ নারী শিক্ষায় নানা দিক দিয়ে এগিয়ে গেলেও কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, কুসংস্কার এবং নিরাপত্তাহীনতার জন্য বাল্যবিবাহ হচ্ছে। বাল্যবিবাহ নারীর জীবনে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আইনের বাস্তবায়ন, সচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ জরুরি। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘আইন করে নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কন্যাশিশুর বিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব’ শীর্ষক বিশেষ সচেতনতামূলক বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি যৌথভাবে এই বিতর্কের আয়োজন করে। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পাক্ষিক অনন্যা’র সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। আরও বক্তব্য রাখেন হোম ইকোনোমিক্স কলেজের অধ্যক্ষ ইফফাত আরা নার্গিস, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু এবং জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, কিছুদিন আগ পর্যন্ত দেশে নিরক্ষরতার হার অনেক বেশি থাকলেও এখন তা অনেকাংশেই কমে গেছে। বর্তমানে ৯৯ শতাংশ শিশু স্কুলে যায়। মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। আমরা সরকার গঠনের সময় নারীর প্রতি যৌন হয়রানির প্রবণতা ছিল। মেয়েকে রক্ষা করতে মা, শিক্ষককে জীবন দিতে হয়েছে। আমরা সে বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলি। এখন তা অনেক কমে এসেছে। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে হলে নারী শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আমরা ৬ষ্ঠ শ্রেণির পর সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করছি। শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রাক্কালে সকল শিক্ষার্থীর কাছে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের নজীর পৃথিবীর কোথাও নেই। বর্তমান সরকার তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাক্ষিক অনন্যা’র সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় নারী- পুরুষের সমতা অনিবার্য। ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীকে ঘরে বন্দী করে রাখা উচিত হবে না। শিক্ষাই নারীর একমাত্র মুক্তির উপায়। তাই মেয়েদের শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা অপরিহার্য। সমস্যা থাকবে, তারপরও সকলকে সমস্যা সমাধান করে নারীকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আইন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা দুটির সমন্বয় ঘটিয়ে সকলকে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ধরনের বিতর্ক প্রতিযোগিতা সমাজকে সচেতন করে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারি দল হিসাবে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও বিরোধী দল হিসাবে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এই ছায়া সংসদে অংশগ্রহণ করে।