অনেক সংগঠন তৈরি হয়েছে, ভেঙ্গেও গেছে। কিন্তু বহু বছর ধরে কচি-কাঁচার মেলা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এর কারণ হচ্ছে অন্তর্নিহিত শক্তি। যে শক্তি সত্য, নিষ্ঠা আর নৈতিকতার। ৫৭ বছর আগে নতুন প্রজন্মকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রকৃত মানুষ হিসেবে তার ভেতরে দেশপ্রেম আর সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল কচি-কাঁচার মেলার কার্যক্রম। সেই প্রতিষ্ঠানটি আজো শিশুদের জন্য নিবেদিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
শনিবার কচি-কাঁচার মেলার ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দানুষ্ঠানে এসব কথা বলেন গুণীজনরা। সেগুনবাগিচার মেলা প্রাঙ্গণে প্রদীপ জ্বালিয়ে, শিশুদের নাচ ও গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শিশুদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন কচি-কাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের প্রথমপর্বে থাকে গুণীজনদের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। কচি-কাঁচার মেলার ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান এটিএম শামসুল হুদা’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাচ বাংলা ব্যাংকের চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কচি-কাঁচার মেলার সভাপতি খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিশু বন্ধু নুহা।
ড. আতিউর রহমান বলেন, আমরা যারা বয়সে প্রবীণ আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে শিশুদেরকে ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া। বর্তমান ও অতীতের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করিয়ে দেয়া।
সভাপতির বক্তব্যে এটিএম শামসুল হুদা বলেন, আজকের প্রজন্ম ফেসবুক, ইন্টারনেটের ভেতর দিয়ে শিখছে, কিন্তু আমরা সবাই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ভরসা করতাম কচি-কাঁচার মেলার উপর।
ডাচ বাংলা ব্যাংকের চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদ বলেন, শিশুরা আমাদের ভবিষ্যত্। তাদের যোগ্য করে গড়ে তোলা আমাদের কর্তব্য। কচি-কাঁচার মেলা শিশুদের যোগ্য নাগরিক ও সৃজনশীল শিল্পমনা করে গড়ে তুলছে।
শিশুদের উদ্দেশে মেলার সভাপতি খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, পৃথিবীতে কোন ধর্মই খারাপ কিছু শেখায় না। সব ধর্মই নৈতিকতা শেখায়। তোমরা তাই সব ধর্মকে সম্মান করবে, কিন্তু ধর্মান্ধ হবে না। আর সবচেয়ে ভালোবাসবে দেশকে।
