পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়ে ২২ বছরে রাজনৈতিক জীবন শুরু। রাজনীতির সাথে সমান তালে চালিয়ে যান পড়াশোনা। আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করার পর তিনি পলিটিক্যাল সায়েন্সে মাস্টার্স করেন। বিহারের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র নারায়ান সিনহাকে রাজনৈতিক ‘গুরু’ হিসেবে পান। মাত্র ২৯ বছর বয়সেই লোকসভার এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ ভাগলপুর দাঙ্গার পর থেকে বিহারে লালুর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠে। পরের বছর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। পরে সিড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে একসময় ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হয়ে যান।
গল্পটি লালু প্রসাদ যাদবের। ভারতের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) প্রধান লালুর রাজনৈতিক জীবনের সম্ভবত ইতি ঘটল। অনেক উত্থান পতনের সাক্ষী লালু আগামী পাঁচ বছর মুক্ত বাতাসে চলাফেরা করতে পারছেন না। কারণ ভারতের বহুল আলোচিত পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সাথে ২৫ লাখ রুপি জরিমানা হয়েছে । সেই সঙ্গে তার এমপি পদ বাতিল হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর মামলা চলার পর গত সোমবার পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় দুর্নীতি দমন আইনে দোষী সাব্যস্ত হন লালু। রায় ঘোষণা হয় গত বৃহস্পতিবার।
রায় ঘোষণার সময় লালুকে আদালতে আনা হয়নি। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে জেলে বসেই তার বিরুদ্ধে দেয়া সাজা শোনেন তিনি। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সামপ্রতিক এক রায় অনুযায়ী, দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হওয়ায় সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়েছেন ভারতের বর্ণময় এই রাজনীতিবিদ। একই কারণে সাজা খাটার পরের ছয় বছর পর্যন্ত নির্বাচনেও দাঁড়াতে পারবেন না কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের এই ঘনিষ্ঠ মিত্র। তার মানে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আর ভোটে দাঁড়াতে পারছেন না তিনি। জেল খেটে যখন বাইরে আসবেন এবং পরবর্তী ছয় বছর অলস বসে থাকার পর নির্বাচনী যুদ্ধে আর অবতীর্ণ হবার মতো শক্তি তার থাকবে কি না তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
৬৬ বছর বয়সী লালুকে রাঁচির বীরসা মুণ্ডা সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়েছে। যদিও এই রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হবে বলেও জানিয়েছে লালুর পরিবার। প্রসঙ্গ, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন পশুখাদ্য কেনার জন্য বরাদ্দ থেকে ৩৭ দশমিক ৭ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগে ১৯৯৬ সালে এই মামলা হয়। লালুপ্রসাদ যাদবসহ মোট ৪৫ জনের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত শুরুর পর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান লালু। ১৭ বছর ধরে মামলা চলার পর আসামিদের সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।
লালুর উত্থান-পতনের মানচিত্র
২২ বছরে রাজনৈতিক জীবন শুরু।
২৯ বছর বয়সে লোকসভার এমপি নির্বাচিত।
১৯৮৯ সালে ভাগলপুর দাঙ্গার পর থেকে বিহারে লালুর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠে।
১৯৯০ সালে প্রথমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত।
১৯৯৬ সালে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির কথা সামনে আসা। ৯৫০ কোটি রুপির গরমিল ধরা পড়ে।
১৯৯৭ সালের ৫ জুলাই জনতা দল থেকে বেরিয়ে নিজের রাজনৈতিক দল তৈরি করেন।
১৯৯৭ সালে ওই একই কেলেঙ্কারি মামলায় ১৩৪ দিনের জন্য জেল হয় লালুর। তবে জেলে না থেকে লালু কাটান বিহারের মিলিটারি পুলিশের গেস্টহাউজে।
২০০০ সালে ফের জেলে যেতে হয় লালুকে। তবে তাতে তার রাজনৈতিক কেরিয়ারে বিশেষ ক্ষতি হয়নি।
২০০৪ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হলেন। বেশ জনপ্রিয়তাও পেলেন।
২০০৫ সাল থেকে পতন শুরু। লালুর চিরশত্রু নীতিশ কুমার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হলেন। পশুখাদ্য ছাড়াও আরও বেশ কিছু কেলেঙ্কারিতে লালুর নাম জড়িয়ে গেল।
২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবি।
২০১০ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে লালুর দল আরজেডি। মাত্র চারটি আসন পান।
২০১৩ সালে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে সিবিআইয়ের আদালতে দোষী সাব্যস্ত। ৫ বছরের কারাদন্ড।
