এক নম্বর হবার পথে রাহুল?

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৫৬
অভিযুক্ত আইন প্রণেতাদের বাঁচানোর জন্য আনা অর্ডিন্যান্স প্রত্যাহার করতে রাহুল গান্ধীর চাপের কাছে মাথা নত করে শেষে তা বাতিল করতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। মনমোহনের সরকারের অর্ডিন্যান্স রাহুলের সমালোচনাতেই বাতিল। অথচ সোনিয়া গান্ধী বলেছিলেন, দল প্রধানমন্ত্রীর পাশেই আছে। কিন্তু বেশিক্ষণ পাশে থাকতে পারেনি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহনকে অতীতের খাতায় পাঠিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে রাহুল গান্ধীর কর্তৃত্ব। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে নির্বাচনি সংস্কার এবং রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণ আনতে গত জুলাই মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়কে স্বাগত জানিয়েছে সুশীল সমাজ। শীর্ষ আদালত মনে করে ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি যেভাবে বাসা বেঁধেছে, তা থেকে দেশকে বাঁচাতে এই রায় বিশেষ ভূমিকা থাকবে। তবে এই রায় পছন্দ হয়নি রাজনৈতিক দলগুলির কাছে। রায়ে বলা হয়েছিল, কোনো সংসদ সদস্য বা বিধায়ক যদি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দু’বছর বা তার বেশি বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে আইনসভার পদ হারাতে হবে। এখানেই শেষ নয়, আগামী ১০ বছর পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না। ভোটের মুখে শরিক দলগুলির মুখ চেয়ে তড়িঘড়ি অর্ডিন্যান্স এনে মনমোহন সিংয়ের জোট সরকার সেই রায় নাকচ করতে চায়। সুশীল সমাজ একযোগে প্রশ্ন তোলে, কেন দাগি এমপি ও বিধায়কদের বাঁচাতে সরকারের এই তত্পরতা। আমজনতার ক্ষোভ আঁচ করে কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী ঐ অর্ডিন্যান্সকে ‘ছিড়ে আস্তাকুড়ে’ ফেলে দেবার কথা বলেন সংবাদমাধ্যমের সামনে। মনমোহন সিং তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় রাহুলের এই অপ্রত্যাশিত মন্তব্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয় সরকারের ভেতর ও বাইরে। তড়িঘড়ি করে চেষ্টা হয় পরিস্থিতি সামাল দেবার। কিন্তু শেষরক্ষা না হওয়ায় কংগ্রেসের ‘কোর কমিটির বৈঠকে আলোচনার পর অর্ডিন্যান্সটি বাতিল করার কথা বলা হয়। এই ‘কোর কমিটি’র প্রধান হলেন সোনিয়া গান্ধী। তার সামনে তারই সরকারকে পিছু হটতে বাধ্য করে রাহুল গান্ধী প্রমাণ করে দিলেন যে, তিনিই দলের এক নম্বর হতে চলেছেন। তার কথাই এখন থেকে হবে শেষকথা। অথচ বছর তিনেক আগে এই সোনিয়া গান্ধীই বলেছিলেন, যাদের ভাবমূর্তি পরিচ্ছন্ন নয়, তার যাতে ভোটে দাঁড়াতে না পারেন, তার জন্য সহমত গড়ে তোলা দরকার। ভারতের নির্বাচনে দাগি প্রার্থীরা এত সহানুভূতি পাচ্ছেন কেন। মনে করা হয়, কোনো দলের স্থানীয় বা জাতীয় স্তরের রাজনীতিকদের জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাদের প্রার্থী না করলে ভোটের অঙ্কে ওলটপালট হবে। দিল্লি-ভিত্তিক এডিআর সংস্থার মতে, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩ জন এমপির মধ্যে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে ঝুলছে ফৌজদারি অপরাধের মামলা। সারা ভারতে এই সংখ্যাটা ১৪৬০। দিল্লি গণধর্ষণ কাণ্ডের পর ভার্মা কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, ধর্ষণ বা অনুরূপ অপরাধের সঙ্গে জড়ি রাজনীতিকরা কোনো পদে বহাল থাকতে পারবেন না।